আধার কার্ড নেই, আঁধারে বিশেষভাবে সক্ষম যোগমায়া, বন্ধ রেশন, মেলে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
বর্তমান | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, ঝালদা: ডিজিটাল পরিষেবার যুগেও অন্ধকারেই থেকে গিয়েছেন পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের ভবানীপুর গ্রামের ৩০ বছর বয়সী যোগমায়া সিংহদেব। জন্ম থেকেই তিনি বিশেষভাবে সক্ষম। হাত-পা বাঁকা। কথা বলতে পারেন না। মানসিক ভারসাম্যও নেই। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে এই অসহায় অবস্থা তাঁর। অথচ, রেশন বন্ধ। মেলেনি আধার কার্ড। মেলেনি সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা। পান না লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও।ভবানীপুর গ্রামের কুদনা মৌজার বাসিন্দা যোগমায়ার পরিবার বলতে ৭০ বছরের বৃদ্ধা মা লক্ষ্মীরানি সিংহদেব ও তাঁর এক কাকা। বাবা ধীরেন্দ্রনাথ সিংহ দেব বিএসএফে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। বড় দিদি মহামায়ার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে বাবার পেনশনের সামান্য টাকাতেই চলে মা ও মেয়ের জীবনসংগ্রাম। সেই টাকার বড় অংশই চলে যায় ওষুধ কিনতে।মা লক্ষ্মীরানিদেবী জানান, ৯ বছর বয়সে কোনওরকমে হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটতে শিখেছিল মেয়ে। নিজের বলতে কিছুই বোঝে না। জামাকাপড়েই মলমূত্র ত্যাগ করে। প্রতিবন্ধী শংসাপত্রে ৭০ শতাংশ বিকলাঙ্গতা থাকলেও আজ পর্যন্ত এক পয়সাও ভাতা জোটেনি কপালে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আধার কার্ড। যোগমায়ার আঙুলের ছাপ ওঠে না। চোখের মণিও স্থির নয়। তাই আধার কার্ড করানো সম্ভব হয়নি। আর আধার সংযোগ না থাকায় গত দু’বছর ধরে বন্ধ যোগমায়ার রেশন। ভোটার কার্ড কোনোদিন হয়নি। তবে ভোটার লিস্টে নাম রয়েছে। ভোট দিতে যায় যোগমায়া।আক্ষেপের সুরে বৃদ্ধা মা বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে। সঙ্গে যাওয়ার মতো কেউ নেই। আগে ব্লক অফিস থেকে রেশন কার্ডে চাল দিত। এখন সব বন্ধ। সরকারের কাছে আমার একটাই আর্জি, মেয়েটার একটা সুরাহা হোক। দরকার হলে আমি টাকা দেব, শুধু ওর আধার আর ভোটার কার্ডটা যেন করিয়ে দেওয়া হয়।’ দিদি মহামায়া জানান, মায়ের শরীরও ভালো নেই। বোনটার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। যদিও প্রশাসনের তরফে আশার আলো দেখানো হয়েছে। বাঘমুন্ডি ব্লকের বিডিও আর্য তা বলেন, ‘রেশন কেন বন্ধ হয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখব এবং দ্রুত রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা করব। ভোটার কার্ডের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তবে, আধার কার্ডের ক্ষেত্রে কারিগরি সমস্যা থাকলেও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’ অন্যদিকে, পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থাম জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিডিওর সঙ্গে কথা বলে যোগমায়ার সমস্ত সরকারি সুযোগ, সুবিধার ব্যবস্থা করবেন। যোগমায়া সিংহদেব