নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জেলা তৃণমূলের এসটি সেলের সহ সভাপতিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল রাজ্যের মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। চন্দ্রকোণা রোড ফাঁড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। নিজের দলের নেতাকেই মন্ত্রী পত্নী হুমকি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ দলের নীচুতলার নেতাকর্মীরা। তৃণমূল নেতাদের কথায়, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তি বাড়ছে। কারণ মন্ত্রীর স্ত্রী অঞ্জনা মাহাত জেলা পরিষদের সদস্য পদেও রয়েছেন। এদিন মন্ত্রী পত্নী অঞ্জনা মাহাতকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, সামনে এসে কথা বলুন। ফোনে কিছু বলি না।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ১৭ জানুয়ারি। ওই দিন সকালে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের এসটি সেলের সহ সভাপতি সমীর হেমব্রম যান মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতর বাড়ি। সেখানে মন্ত্রীর ছেলে একটি ইট দিয়ে সমীরবাবুর চারচাকা গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে দেয়। সেই সময়ে মন্ত্রী সমীরবাবুর গাড়িতে নতুন কাচ লাগানোর খরচ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন সমীরবাবু। পরে বারংবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও মন্ত্রী ক্ষতিপূরণের টাকা দেননি। ঘটনার কয়েকদিন বাদে মন্ত্রীর কথা মতো গাড়িটি শোরুমে নিয়ে গেলেও টাকা দেননি মন্ত্রী। এরপর এই ঘটনাটি সমীরবাবু একটি লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন। তাতে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার কিছু সময়ের মধ্যেই মন্ত্রী বিষয়টির মীমাংসা করে নেন। পাশাপাশি মন্ত্রী দ্রুত সমীরবাবুর হাতে ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে দেন। এরপর ভিডিও পোস্টটি ডিলিটও করে দেন সমীরবাবু। কিন্তু অভিযোগ, এরপরেই সমীরবাবুর খোঁজ শুরু করেন মন্ত্রী পত্নী। বাড়িতে না পেয়ে, একটি চায়ের দোকানে গিয়ে সমীরবাবুকে অশ্লীল ভাষায় হুমকি দেওয়া হয়। সমীরবাবু অভিযোগপত্রে জানান, প্রাণসংশয়ের সমস্যায় ভুগছি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, মন্ত্রী পত্নী নিজেও তৃণমূল নেত্রী। এটাই তৃণমূলের কালচার। দুর্নীতি আর গোষ্ঠী কোন্দল ওদের কাজ। দলটাই বিধানসভা নির্বাচনের পর আর থাকবে না। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মহম্মদ রফিক বলেন, অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানা নেই। তবে বিজেপি যেন দলীয় কোন্দল নিয়ে বেশি কথা না বলে।