সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বিহারের মতো বাংলার জন্যও বাজেটে বিশেষ কিছু ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় সরকার— আশায় ছিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু, মোদি সরকার সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। তার উপর আবার ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে’র মতো বাজেট-বন্দনা করার ফরমান এসেছে দিল্লি থেকে। বলা হয়েছে, স্রেফ বাজেটের গুণগান করার জন্য বাংলার প্রতিটি জেলায় গড়তে হবে আলাদা কমিটি। তাতে সদস্য হিসাবে থাকবেন সাংগঠনিক জেলার পাঁচ থেকে ছ’জন ‘বুদ্ধিজীবী’ নেতা। কিন্তু এই ফতোয়া মানতে নারাজ রাজ্য বিজেপির একাংশ। অধিকাংশ জেলার নেতৃত্ব বাজেট নিয়ে এহেন ঢক্কানিনাদ ‘বয়কটে’র সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দিল্লি থেকে চাপ আসছে, কিন্তু তাঁরা অনড়। এমনিতেই ভোটের কাজে ভিনরাজ্য থেকে ‘ভাড়াটে সৈনিক’ পাঠানো নিয়ে বাংলার নেতাদের বড় অংশ ক্ষুব্ধ। তার উপর বঞ্চনার বাজেটের ভূয়সি প্রশংসার নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাত বাড়ছে বঙ্গ বিজেপির।এপ্রসঙ্গে গেরুয়া শিবিরের রাজ্যস্তরের এক নেতা জানিয়েছেন, দিল্লির নেতারা আসলে বাংলার ‘সেন্টিমেন্ট’টাই বুঝতে চাইছেন না। শিলিগুড়ি-বারাণসী হাইস্পিড রেল করিডর, ডানকুনি-সুরাত ফ্রেট করিডর এবং দুর্গাপুর শিল্প করিডর ছাড়া আর কিছুই নেই বাজেটে। অথচ, কেন্দ্রের নেতারা লম্বা তালিকা তৈরি করে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সে সবের সঙ্গে বাংলার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। রাজ্যের বাজেটে নিশ্চয়ই বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়াবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তখন আমরা কেন্দ্রের বাজেট নিয়ে প্রচারে গেলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। তাই জাতীয় নেতৃত্বের এই ফরমান মানতে রাজি হচ্ছেন না অধিকাংশ জেলার নেতারা। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় নেতানেত্রীরাই জেলায় এসে প্রচার করুক। যদিও বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সম্পাদক মৌমিতা বিশ্বাস বলেন, ‘বাজেটের সংক্ষিপ্ত বিবরণ জেলায় জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষকে সহজ ভাষায় বাজেট সম্পর্কে বোঝানো হবে। আমরা কখনোই চটকদারিতে বিশ্বাস করি না। দেশের সামগ্রিক উন্নতির কথা চিন্তা করেই বাজেট তৈরি হয়েছে।’বিজেপি সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগে দুর্গাপুরের বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়ে গিয়েছে, এসআইআর পর্ব শেষ হলেই খেলা ঘুরে যাবে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বড় অংশের নাম বাদ যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু তাতে বিভোর হতে রাজি নন বাংলার নেতারা। বিশেষ করে বাজেটের পর তাঁরা বড় ধাক্কা খেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা স্বপন দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম থেকেই বাংলাকে বঞ্চনা করে এসেছে। একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। বাজেটেও তারা বাংলার উন্নতির জন্য কিছু বরাদ্দ করবে না, সেটা প্রত্যাশিত ছিল। এরপর ওরা কোন মুখে মানুষের কাছে যাবে? বাংলার জন্য কেন্দ্র কী দিয়েছে, সেটা সকলেই জানতে চাইবে। এ রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কোনো মানুষের বিজেপি করা উচিত নয়।’সিপিএম নেতা অমল হালদারের দাবি, কেন্দ্রীয় বাজেটে কর্পোরেট সংস্থাগুলি লাভবান হবে। বাংলা তো কৃষিনির্ভর। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকার সারের উপর থেকে বড়ো অংশের ভর্তুকি তুলে নিয়েছে। এরপর বাংলায় বাজেট নিয়ে কী প্রচার করবে বিজেপি?