নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: হঠাৎ ব্যাংক ম্যানেজারের ফোন! কেওয়াইসি আপডেট নেই! এখনই আপডেট করতে হবে। কিন্তু, উপায়? কষ্ট করে ব্যাংকে যেতে হবে না। বাড়িতে বসে অনলাইনেই নাকি সম্ভব! এমন ফোন পেয়ে রাজারহাটের এক বাসিন্দা ভেবেছিলেন, সত্যিই বোধহয় ব্যাংক ম্যানেজার করে তাঁর উপকার করছেন। তিনি বুঝতে পারেননি প্রতারকরাই ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে এই প্রতারণা করছে। তাই ভুয়ো ম্যানেজার তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে লিঙ্ক পাঠিয়ে দিয়ে বলে, এখানে ফর্ম ফিল-আপ করে দিন। তাহলেই হয়ে যাবে। তিনি ফিল-আপ করতেই পরপর ১৪টি ট্রানজাকশনের মেসেজ। মোবাইলে হাতে নিয়ে দেখেন, ১৬ লক্ষ টাকা গায়েব!ততক্ষণে তিনি বুঝে গিয়েছেন যে, প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন। রাজারহাটের ওই বাসিন্দা বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে, এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, ফোনে কেওয়াইসি আপডেট করার নাম করে প্রতারকরা অনেককেই টার্গেট করে। গত কয়েকমাসে বিধাননগরে বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। এই ধরনের ফোন এলে সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজনে নিজে ব্যাংকে গিয়ে সহায়তা নিন।অন্যদিকে, পুরনো বিমা নবীকরণের ফাঁদে পড়ে নিউটাউনের এক আবাসিক ১৬ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা খুইয়েছেন। তিনিও বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর একটি পুরানো বিমা ছিল। কোনওভাবে সেটি ‘ডরম্যাট’ হয়ে হয়েছিল। প্রতারকরা বিমা কোম্পানির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করে। বলা হয়, ১৬ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা দিলে পুরো বিমার টাকা ম্যাচুইরিটি সহ তিনি পেয়ে যাবেন। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ওই টাকা আরটিজিএস করে পাঠিয়ে দেন। তারপর ভুয়ো বিমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তখন তিনি টের পান, প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন।