গঙ্গাপাড়ের ঝোপে ব্যাগ লুকিয়েই চম্পট দুষ্কৃতীদের, জানাচ্ছে পুলিশ
বর্তমান | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একের পর এক গাড়ির দরজার কাচ ভাঙা। আর গাড়ির ভিতর থেকে গায়েব ব্যাগ, টাকা-পয়সা। প্রিন্সেপ ঘাট ও জাজেস ঘাটে লাগাতার দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে নয়া তথ্য পেলেন তদন্তকারীরা। গঙ্গাপাড়ের চক্ররেলের লাইন ও পাশের রাস্তার মাঝের অংশে রয়েছে ঝোপঝাড়। একাধিক চুরির তদন্তে সেখানেই খানা তল্লাশিতে যায় দক্ষিণ বন্দর থানার পুলিশ। সেই ঝোপ থেকেই উদ্ধার হয়েছে খোয়া যাওয়া দামি ব্যাগ। কিন্তু, ভিতরে কোনো টাকাপয়সা নেই। সেখানেই রয়েছে লোহার শাবল, পাথরের টুকরো। পারিপার্শ্বিক এই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ থেকেই পুলিশের অনুমান, ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকছে দুষ্কৃতীরা। এরপর সুযোগ বুঝে গাড়ির কাচ ভেঙে অপারেশন চালাচ্ছে তারা।প্রিন্সেপ ঘাট স্টেশনের পাশ থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত রেললাইন আর রাস্তার মাঝে লোহার রেলিং দিয়ে ভাগ করা রয়েছে। কিন্তু, স্টেশন থেকে জাজেস ঘাট পর্যন্ত অংশে রেললাইন ও লোহার রেলিংয়ের মধ্যে বিক্ষিপ্ত ঝোপঝাড় রয়েছে। কোথাও কোথাও আবার তা বেশ ঘন। সেই ঘন ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকছে দুষ্কৃতীরা। পুলিশি তদন্ত বলছে, রেলিংয়ের বেশ কিছু জায়গা ভাঙা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেই ভাঙা অংশ দিয়েই ঝোপঝাড়ে ঢুকছে তারা। সেখানেই মিলেছে মাদক ও মাদক সেবনের নানা সাজ-সরঞ্জাম পেয়েছেন তদন্তকারী। তা থেকেই তদন্তকারীরা কার্যত নিশ্চিত মাদক সেবনকারীরাই গাড়ির কাচ ভেঙে এই চুরি করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঝোপঝাড় থেকে মিলেছে চারটি দামি ব্যাগ। চেন খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল সেগুলি। ভিতরে থাকা কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে অকুস্থলে। কিন্তু, ভিতরে কোনো টাকাপয়সা নেই। সেই ব্যাগগুলিকে চিহ্নিত করার জন্য অভিযোগকারীদের ডেকে পাঠানো হয় থানায়। তিনজন সেই ব্র্যান্ডেড ব্যাগগুলিকে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন অভিযোগকারীর দাবি, ব্যাগের ভিতরে টাকার ব্যাগ ছিল। তাতে ৩ হাজার নগদও ছিল।প্রিন্সেপ ঘাট ও জাজেস ঘাট সংলগ্ন রাস্তায় রুখতে এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন ডেপুটি কমিশনার (বন্দর) হরিকৃষ্ণ পাই। বাহিনীকে তাঁর নির্দেশ প্রতিদিন বিকেল থেকে এলাকায় টহলদারির জন্য থানার বিশেষ বাইক টিম তৈরি করতে হবে। শুধু রাস্তায় নয়, ওই ঝোপঝাড়েও কেউ ঘাপটে মেরে রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে হবে টহলদারি টিমকে। একইসঙ্গে, গঙ্গার ঘাটে সাদা পোশাকের পুলিশ টহল দেবে। কোনো মাদক সেবনকারী ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।