নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নারী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে প্রায় রোজই কোথাও না কোথাও পুলিশে অভিযোগ হয়। বারাকপুরের থানাগুলিতে প্রতিমাসে গড়ে ১৫ থেকে ২৫টি বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের হয়। তবে কোনও পুরুষ তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে ঘুরছেন, এমন ছবি বিশেষ চোখে পড়ে না। মঙ্গলবার সেরকমই একটি বিরল ছবি দেখা গেল। বেলঘরিয়ার এক যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানা তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। সত্যতা বিচারের পর দায়ের হয়েছে অভিযোগ।অভিযোগকারী যুবক বলেন, ‘আমি ভয়াবহ প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার। তদন্ত হলে তা প্রমাণিত হবে।’ অভিযোগকারীর নাম সুব্রত দত্ত (নাম পরিবর্তিত)। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। ২০২৩ সালে সমাজমাধ্যমে বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার মেমারির এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপর দু’জনের বন্ধুত্বের শুরু। পরিচয় আরও ঘন হওয়ার পর দু’জনে বিবাহের সিদ্ধান্ত নেন। তারপর দুই পরিবার কথাবার্তা পাকা করে। এরপর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয় তাঁদের। সে সময় সুব্রত নিজের বৃদ্ধ বাবা-মা ও দাদা-বউদির সঙ্গে আগরপাড়ার এক ফ্ল্যাটে থাকতেন। তিনি জানান, প্রথমদিকে দাম্পত্যজীবন ঠিকই চলছিল। কিন্তু কয়েকমাস যেতে না যেতেই দাদা-বউদির সঙ্গে নববধূর গন্ডগোল শুরু হয়। ক্রমে অশান্তি বাড়তে থাকে। তা মাত্রাছাড়া চেহারা নেওয়ার কারণে দাদা এবং বউদি অন্য জায়গায় ফ্ল্যাটে নিয়ে চলে যান।এর মাঝে সুব্রত গিয়েছিলেন শ্বশুরবাড়ি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর স্ত্রীর এটি দ্বিতীয় বিবাহ। ২০১৬ সালে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। চারবছরের একটি পুত্রসন্তানও ছিল স্ত্রীর। শিশুটি জলে ডুবে মারা গিয়েছিল। তারপর মহিলা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন। সুব্রত জানিয়েছেন, সব জানার পর কষ্ট হলেও মেনে নিয়ে সংসার করছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর জানতে পারেন স্ত্রীর একাধিক ছেলে বন্ধু। তিনি মডেল হতে চান।এরপর স্বামীকে বাবা ও মায়ের থেকে আলাদা হতে চাপ দেন স্ত্রী। সে কথা না মানলে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি লাগাতার দিতে শুরু করেন। এছাড়া স্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া উপহার, সোনার গয়না ও নগদ টাকা পাঠিয়ে দেন বাপের বাড়ি। কিছু পরিমাণ আগের স্বামীকেও দিয়ে দেন। এরপর কয়েকমাস আগে নিজে শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে যান। সুব্রত বলেন, ‘থানায় ঘুরছি। কেউ প্রথমে আমার কথা বিশ্বাস করেননি। শেষে মঙ্গলবার অভিযোগ গ্রহণ করেছে। চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। আমার কাছে স্ত্রীর আচরণ সংক্রান্ত সব তথ্যপ্রমাণ আছে। শুধুমাত্র পুরুষ বলে আমি যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হই।’ খড়দহ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।