• বাবার বিশাল অঙ্কের দেনার কারণেই আত্মঘাতী গাজিয়াবাদের তিন বোন? রহস্য উদঘাটনের চেষ্টায় পুলিশ
    এই সময় | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • গাজিয়াবাদে এক সঙ্গে তিন বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় পড়তে পড়তে রহস্য। কী কারণে এক সঙ্গে তিন বোন আত্মঘাতী হয়েছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আর এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই নতুন তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের। পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই তিন বোনের বাবা চেতন কুমারের দু'কোটি টাকার বেশি দেনা ছিল। এই নিয়ে মানসিক চাপের কারণে তিন জন সঙ্গে বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে কী না তাও জানতে চাইছে পুলিশ।

    প্রসঙ্গত, বুধবার গভীর রাতে, গাজিয়াবাদের লোনি এলাকার একটি বহুতলের ন’তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তিন বোনের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তিন বোনের নাম পাখি (১২), প্রাচী (১৪) এবং নিশিকা (১৬)।  এর পরেই তাদের বাবা চেতন কুমার দাবি করেন, তার মেয়েরা কোরিয়ান সংস্কৃতি ভালোবাসত। ‘কোরিয়ান লাভার’ নামে একটি অনলাইন গেমিংয়ে আসক্ত ছিল তারা। এই কারণেই তিনি মেয়েদের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি। মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল তাদের বাবা। এরই সঙ্গে চেতন কুমারের দাবি ছিল, ওই গেমের শেষ কাজ ছিল ‘সুইসাইড করা’।

    যদিও বুধবার সন্ধ্যায় গাজিয়াবাদের পুলিশ দাবি করেছে, ‘কোরিয়ান লাভার’ গেমই আত্মহত্যার মূল কারণ নয়। তবে কোরিয়ান গেমের প্রতি আসক্তিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তাঁরা। ওই পরিবারের অন্যতম সমস্যা ছিল বিপুল পরিমাণ দেনার বোঝা বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে খবর, চেতন কুমার একজন স্টক মার্কেট ব্যবসায়ী। তাঁর প্রায় ২ কোটি টাকা দেনা আছে। বিদুতের বিল মেটাতে মেয়েদের ফোন বিক্রি করে দিয়েছিলেন চেতন কুমার। সেই কারণে ওই তিন বোন হয় বাবা বা মায়ের মোবাইল ফোনই ব্যবহার করত। বাবার এমন ব্যবহারে মানসিক আঘাতও পেয়েছিল তারা। এমন কি আর্থিক চাপের কারণে মেয়েদের স্কুলেও যেতে দিতেন না চেতন কুমার।

    একই সঙ্গে জানা গিয়েছে, চেতন কুমারের দু'টি স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ১৭ বছর কাটানোর পরে তাঁরই বোনকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। বছর তিনেক আগে তাঁরা দিল্লির খাজুরি খাস থেকে চলে আসেন গাজিয়াবাদের ওই বহুতলে। তাঁর ছেলে মানসিক রোগে আক্রান্ত।

    পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তিন বোনের লেখা একটি ‘নোট’-ও পাওয়া গিয়েছে। ওই নোটে একটি ডায়েরির কথারও উল্লেখ করা আছে। তাতে লেখা ছিল ডায়েরিতে যা লেখা আছে সব সত্যি। নোটের শেষে ‘আই অ্যাম রিয়েলি সরি পাপা’ লিখে একটি কান্নার ইমোজিও আঁকা ছিল। সমস্ত কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন গাজিয়াবাদের এসিপি অতুল কুমার সিং।

  • Link to this news (এই সময়)