• ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে প্রস্তুত ছিল ভারত, রুবিওকে জানান অজিত ডোভাল
    এই সময় | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • কোনও তড়িঘড়ি নয়। ভারত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্পের মেয়াদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও রাজি ছিল। মার্কিন বিদেশমন্ত্রীকে এমন কথাই জানিয়েছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। ট্যারিফ কমানো নিয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই প্রকাশ্যে এসেছে ওই তথ্য।

    ভারতীয় পণ্যের উপর ট্যারিফ কমানোর কথা ঘোষণা করেছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অনুরোধ’ মেনে অবিলম্বে নয়াদিল্লির উপর কার্যকর থাকা শুল্ক-হার ৫০ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেই এই কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে, এই চুক্তির শর্ত কী হবে তা জানানো হয়নি আমেরিকার তরফে।

    ট্রাম্পের এই দাবি পরেই কথা বলার পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। যদিও কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থ বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ না করেই সমঝোতায় রাজি হয়েছে নয়াদিল্লি। গরিব-কৃষক-যুবসমাজ-মহিলা’সহ ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সার্বিক উন্নতির স্বার্থেই এই পদক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেও দাবি করেছেন তিনি।  গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া বাণিজ্য চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ প্রায় চূড়ান্ত। এর খুঁটিনাটি দ্রুত সবার সামনে আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    অন্য দিকে, ভারত-আমেরিকার চুক্তিকে বড় জয় বলে দাবি করছেন ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা। আর, সেই সময়েই অন্য একটি বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, মোদী সরকার ওয়াশিংটন ডিসিকে জানিয়েছিল যে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের মেয়াদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক ভারত।

    ব্লুমবার্গ-র প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ভারত সরকার তার কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিল। ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পরেই ওই বৈঠক হয়। নয়াদিল্লির আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে তাতে জানানো হয়, ডোভাল রুবিওকে জানিয়েছিলেন ভারত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ সহযোগীদের দ্বারা উৎপীড়িত হবে না। বরং ভারত ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক। কারণ অতীতে অন্যান্য প্রতিকূল আমেরিকান প্রশাসনের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। এমনকী আমেরিকাকে প্রকাশ্যে ভারতের সমালোচনা কমিয়ে আনার বার্তাও দেওয়া হয় ওই বৈঠকে। যাতে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে সেই বার্তাও রুবিওকে দিয়েছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তবে ওই বৈঠক ছিল নিছকই ‘ব্যক্তিগত’। নয়াদিল্লিও ওই বৈঠক সম্পর্কে অবহিত ছিল।

  • Link to this news (এই সময়)