• কঠোর ব্যবস্থা বর্ধমানের সেই স্কুলে, পরীক্ষার দায়িত্বে নতুনরা
    এই সময় | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময় কলকাতা ও জামালপুর: পূর্ব বর্ধমানের আঝাপুর হাইস্কুলে শুক্রবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর পদক্ষেপ করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। মঙ্গলবার ইংরেজি পরীক্ষার দিন হলে গ্রুপ-ডি কর্মীর মোবাইল ফোন বেজে ওঠা এবং পরে প্রধান শিক্ষকের ঘরে অফিসার-ইনচার্জ প্রশান্ত কবিরাজকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় আঝাপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অসীমকুমার বিশ্বাস-সহ সাত শিক্ষক এবং ওই শিক্ষাকর্মীকে সাসপেন্ড করেছে পর্ষদ। তাঁদের পরীক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (ডিআই-মাধ্যমিক) অফিসে বুধবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কেন্দ্রীয় অফিসের দুই আধিকারিকের দীর্ঘ বৈঠক হয়। আলোচনার পরে জানানো হয়, যে সাত শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁদের জায়গায় সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে পাশ্ববর্তী স্কুল থেকে সরকারি নিয়ম মেনে ১০ জন শিক্ষককে নিয়ে আসা হচ্ছে। লাগোয়া পর্বতপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অতনু ঘোষকে আঝাপুর হাইস্কুলের ভেন্যু সুপারভাইজ়ার নিয়োগ করা হয়েছে। সহকারী বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরাও পর্বতপুর হাইস্কুলের।

    আবার জামালপুর ব্লকের পূর্ব চক্রের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ অসুস্থ থাকায় তাঁর জায়গায় অফিসার-ইনচার্জ হিসেবে পরীক্ষার বাকি দিনগুলিতে দায়িত্বে থাকবেন জয়শ্রী বিশ্বাস। তিনি বর্তমানে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনস্পেক্টর হিসেবে কর্মরত। পর্ষদের তরফে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সবাইকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পর্যদের নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ কোনও রকম কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শুক্রবার-সহ পরবর্তী পরীক্ষা নিয়ে কোনও রকম সমস্যা যাতে না হয়, তারজন্য আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আঝাপুর হাইস্কুলে সেন্টার কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। তাতে ডিআই (মাধ্যমিক), ডিস্ট্রিক্ট মনিটরিং কমিটির কনভেনর, নতুন অফিসার ইনচার্জ এবং ভেন্যু সুপারভাইজ়ার, পর্ষদের আঞ্চলিক অফিসের আধিকারিক এবং সেন্টার সেক্রেটারিরা উপস্থিত থাকবেন। পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'চলতি পরীক্ষার বাকি দিনগুলিতে যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়, সেজন্য সব প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'

    সূত্রের খবর, আঝাপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক-সহ সাত শিক্ষক এবং গ্রুপ-ডি শিক্ষাকর্মী সঞ্জীব দাসকে সাসপেন্ডের পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ডিসিপ্লিনারি প্রসিডিংস চালিয়ে শাস্তিদানের প্রক্রিয়াও শুরু হতে চলেছে। ডিআই (মাধ্যমিক) গোটা বিষয়টির তদন্ত করে পর্ষদের কাছে রিপোর্ট জমা দেবেন। তার ভিত্তিতে পর্ষদ প্রথমে এই আট জনকে শো-কজ করবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের উত্তর দিতে হবে। সেই উত্তর সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেবে পর্ষদ। তার উপরে ভিত্তি করে জরিমানা বা পেনাল্টি ধার্য করা হবে। সব মিলিয়ে বেশ চাপে আঝাপুর হাইস্কুলের ওই আট শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী।

  • Link to this news (এই সময়)