• প্রবল আওয়াজে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা, গভীর রাতে সল্টলেকে বাইকবাহিনীর দাপট
    এই সময় | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: ঘড়ির কাঁটায় মঙ্গলবার রাত দেড়টা। শুনশান রাস্তায় ছুটে চলেছে ১৪–১৮টি মোটরাইক। প্রত্যেকটি বাইকে সওয়ার তিন জন। কারও মাথায় হেলমেট নেই। প্রত্যেকটি বাইকের সাইলেন্সার খোলা। বিকট শব্দে কান পাতা দায় আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের।

    এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে অভিজাত সল্টলেকের নিকো পার্ক থেকে জে কে সাহা ব্রিজ যাওয়ার রাস্তায়। যে শান্ত–নিরিবিলি শহরকে অনেকেই বৃদ্ধদের নিশ্চিন্ত ঠিকানা বলে থাকেন। গভীর রাতে এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে সল্টলেকের ই ই ব্লকের এক বাসিন্দা যোগাযোগ করেছিলেন বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায়। ফোন তোলেন এক অফিসার। বিষয়টি শুনে বিরক্তির সুরে বলেন, ‘ওই এলাকা আমাদের থানার আওতায় পড়ে না। আপনি, বিধাননগর দক্ষিণ থানায় যোগাযোগ করুন।’

    তাঁকে ই ই ব্লকের ওই বাসিন্দা অনুরোধ করেন, বিষয়টি দক্ষিণ থানায় জানিয়ে দিতে। যদিও তিনি সেটা করতে অস্বীকার করেন। উল্টে ওই ব্যক্তিকেই পরামর্শ দেন, দক্ষিণ থানায় যোগাযোগ করার। যদিও, বিধাননগর দক্ষিণ থানায় যোগাযোগ করার পরেও ওই বাইক বাহিনীর দাপট থামেনি। রাত তিনটে পর্যন্ত ওই বাইক বাহিনীর দাপটে কানে তালা লেগেছে বলে দাবি ওই রাস্তা সংলগ্ন ইই, সিএল–সহ একাধিক ব্লকের বাসিন্দাদের।

    সিএল ব্লকের বাসিন্দা ৭৫ বছরের চন্দনা মিত্র বুধবার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে প্রায় ঘণ্টাখানেক বাড়ির সামনের রাস্তায় একদল যুবক বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। একদিকে বাইকের আওয়াজ সেই সঙ্গে চিৎকার।’ শুধু ওই ব্লকে নয়। লাগোয় প্রতিটি ব্লকেই প্রচুর প্রবীণ বাসিন্দার বাস। ‘এমন হলে শান্তিতে মানুষ থাকবে কী করে’ প্রশ্ন চন্দনার। ই ই ব্লকের বাসিন্দা অরিন্দম দত্ত বলছেন, ‘গতকাল রাতে যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনওভাবেই সল্টলেকের মতো শহরে কাম্য নয়। এর থেকেই প্রমাণ হয় যে পুলিশের নজরদারি বলে কিছু নেই।’ বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, মানুষের সমস্যার সুরাহা করা তো থানারই কাজ। সেই থানাই যদি মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষা না করে, তা হলে সাধারণ মানুষ যাবেন কোথায়?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাইলেন্সার খোলা বা সেটা মডিফাই করে বাইক চালালে সেই বাইকে তুলনায় অনেক বেশি আওয়াজ হয় (কারণ বাফেল বা শব্দ কমানোর ডিভাইস বাদ পড়ে যায় বা তা ঠিকভাবে কাজ করে না)। রাতের নিস্তব্ধতা চিরে আওয়াজের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়। বহু বাড়ি–ফ্ল্যাটে অসুস্থ মানুষের বাস। অনেক বাড়িতে শিশু, পোষ্য রয়েছে। এই বিকট আওয়াজে সমস্যায় পড়ে তারা।

    এ ভাবে সাইলেন্সার খুলে বাইক চালানো কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ? পরিবহণ দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, পুরোপুরি বেআইনি। মোটর ভেহিক্যাল আইন অনুযায়ী এতে যে শব্দদূষণ হয়, তার জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিন মাসের জেল পর্যন্ত হতে পারে। ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার এক অফিসারের দাবি, ফোন পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

    বিধাননগর কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার এম এম সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে সল্টলেক এবং আশপাশের এলাকা থেকে বাইক সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আইন মেনে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ নিয়ম না মেনে গাড়ি চালালে কোনওভাবেই তা বরদাস্ত করে হবে না বলে জানিয়েছেন ডিসি।

  • Link to this news (এই সময়)