• জল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে টানেল ভেন্টিলেশনে রূপান্তর
    এই সময় | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: কলকাতা মেট্রোর ব্লু–লাইনের স্টেশনগুলিতে টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম এবং এনভায়রনমেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম-এর আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হলো। ৫৮৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প ২০৩০–এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার দুপুর থেকে কাজ শুরু হয়েছে। সংস্থা জানাচ্ছে, এই কাজ সম্পূর্ণ হলে কলকাতা মেট্রোর ব্লু–লাইনে যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তা–ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নত হবে।

    প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ব্লু–লাইনের ১৫টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও। এতদিন ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলি ঠান্ডা রাখতে ‘ওয়াটার কুল চিলার’ ব্যবহার করা হতো। এই কারণে ব্লু–লাইনের ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনের বাইরে ‘কুলিং টাওয়ার’ও দেখা যায়। নতুন পরিকল্পনায় এর পরিবর্তে ‘এয়ার কুল চিলার’ ব্যবহার করা হবে। এর ফলে জলের সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার কাজটিও সহজ হবে। স্টেশনগুলির বাইরেও আর কুলিং টাওয়ার রাখার প্রয়োজন হবে না।

    বুধবার কলকাতা মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু মিশ্রর উপস্থিতিতে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে আমরা বছরে ১৮ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার কমাতে পারব। বর্তমানে যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তাতে প্রতি বছর মেট্রো স্টেশনগুলিকে ঠান্ডা রাখার জন্যে বিপুল পরিমাণ জলের প্রয়োজন হয়।’

    একই সঙ্গে আধুনিকীকরণ হচ্ছে টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেমেরও। বর্তমানে চালু ব্যবস্থাটি ৪১ বছরের পুরোনো। সে সময়ে নন–এসি কোচ চলা টানেলকে যে পদ্ধতিতে ঠান্ডা রাখার প্রয়োজন হতো, আজকের এসি রেকের যুগে সেই পদ্ধতি অচল। এ ছাড়া উন্নতমানের ধোঁয়া নিষ্কাশন ব্যবস্থাও তৈরি হবে সুড়ঙ্গে। মেট্রো জানাচ্ছে, টানেলের মধ্যে ১৪টি মিড–পয়েন্টে ১১০ কিলোওয়াটের ‘সেন্ট্রিফিউগাল ফ্যান’–এর মাধ্যমে টানেলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা হতো। এই ফ্যানগুলি ২৪ ঘণ্টাই চলত এবং এর জন্যে বছরে প্রায় ২১ কোটি টাকা ইলেকট্রিক বিল দিতে হতো।

    ২০২১-২০২২–এ মিড–পয়েন্টগুলিতে ‘ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ’ বসানোর ফলে বিদ্যুৎ খরচ অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। এ বার এই ফ্যানগুলিও বদলে দিয়ে তার জায়গায় ‘অ্যাক্সিয়াল ফ্যান’ বসানো হবে। টানেলে আগুন লাগার মতো ঘটনা ঘট‍লে, ধোঁয়া তৈরি হলে টানেলের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে গেলে, কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বাড়লে—এই ফ্যানগুলি স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলতে শুরু করবে। সারাক্ষণ চলার দরকার হবে না।

  • Link to this news (এই সময়)