পদোন্নতি হলেও পোস্টিং কবে, প্রশ্ন তুলছে রাজ্যের হেল্থ সার্ভিস
আনন্দবাজার | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রায় ১১ মাস আগে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব হেল্থ সার্ভিস’ (এডিএইচএস) পদে উন্নীত হয়েছেন ন’জন চিকিৎসক-আধিকারিক। অথচ তাঁদের এখনও পদোন্নতির পোস্টিং দেওয়া হয়নি।অন্য দিকে, সম্প্রতি অবসর নেওয়া তিন জন ‘এডিএইচএস’-এর কাজের দায়িত্ব অতিরিক্ত ভাবে দেওয়া হয়েছে অন্য দুই আধিকারিকের উপরে। আর এক জন অবসরপ্রাপ্ত ‘এডিএইচএস’-কে পুনরায় এক বছরের জন্য পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই ভাবেবেশ কয়েক মাস আগে ডেপুটি ডিরেক্টর অব হেলথ সার্ভিস (ডিডিএইচএস) পদে উন্নীত হওয়ার ইন্টারভিউ হলেও তার ফলাফল আজও প্রকাশিত হয়নি।
রাজ্যের মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘ দিন স্থায়ী অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ বার রাজ্যের হেল্থ সার্ভিসে পদোন্নতি ও পোস্টিংয়ে অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্বাস্থ্য দফতর। সংগঠনগুলির দাবি, ‘‘পদোন্নতির পরীক্ষার ফলাফল বেরোনোর পরেও কোন অদৃশ্য কারণে পোস্টিং হচ্ছে না, সেটাই স্পষ্ট নয়।’’ এ বিষয়ে জানতে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা স্বপন সোরেনকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি, মেসেজের উত্তরও দেননি।সূত্রের খবর, ‘ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব হেল্থ সার্ভিস’ (ডিএডিএইচএস) থেকে ‘এডিএইচএস’ পদোন্নতিতে প্রায় ৮৫ জন চিকিৎসককে ডাকাহয়েছিল। ২০২৪-এর ডিসেম্বরে ইন্টারভিউয়ে উপস্থিত হন প্রায় ৫০ জন। ২০২৫-এর মার্চে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে দেখা যায়, ন’জন ‘এডিএইচএস’ পদোন্নতি পেয়েছেন। নিয়মানুযায়ী ওই অফিসারদের জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন বিভাগে ‘এডিএইচএস’ পদে পোস্টিং হওয়ার কথা। কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও কিছুই হয়নি।
অথচ, গত ৩০ জানুয়ারি স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় দেখা যাচ্ছে কুকুর, সাপে কামড়ানোর প্রতিষেধক, প্রাকৃতিকবিপর্যয় ও জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত বিভাগ এবং জেলা মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা দু’জন ‘এডিএইচএস’ অবসর নিয়েছেন। ওই দু’টি বিভাগের দায়িত্ব অতিরিক্ত ভাবে দেওয়া হয়েছে জেলা পরিবার কল্যাণ আধিকারিককে।মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ট্রেনিংয়ের বিভাগের ‘এডিএইচএস’ অবসর নেওয়ায় সেই দায়িত্ব বর্তেছে টিকাদান বিভাগের আধিকারিকের উপরে। আবার অপথ্যালমোলজি বিভাগের ‘এডিএইচএস’অবসর নিলেও তাঁকে ফের একটি প্রকল্পের ওএসডি পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
একই ভাবে মাসকয়েক আগে বিভিন্ন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিংবা স্বাস্থ্য ভবনে ‘এডিএইচএস’ পদাধিকারীদের ‘ডিডিএইচএস’ পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েও তা কার্যত ঠান্ডা ঘরে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ। অথচ, ৩০ জানুয়ারির নির্দেশিকায় মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ট্রেনিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা ‘ডিডিএইচএস’ অবসরের পরে সেই অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুষ্ঠরোগ নিরাময় বিভাগের আধিকারিকের উপরে।
সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরেই পদোন্নতি ও পোস্টিংয়ে এমন অনিয়ম চলছে। পদোন্নতি পেয়েও পোস্টিং না হয়ে ফের আরও একটি পদোন্নতির সময় চলে আসছে। যত দিন না স্বজনপোষণ ও দুর্নীতি বন্ধ হবে, তত দিন এমন অনিয়ম বন্ধ হবে না।’’