আজকাল ওয়েবডেস্ক: জুটমিলের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাঙ্কের মধ্যে থেকে উদ্ধার হল এক কিশোরের মৃতদেহ। হালিশহরের হুকুমচাদ জুটমিলের মধ্যে থেকে কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পুরসভা এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এইচ.কে ভট্ট রোডে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই এলাকার হুকুমচাদ জুটমিলের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাঙ্কেকর মধ্য থেকে এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সূত্র মারফৎ জানা যায়, গতকাল বুধবার দুপুরের পর থেকে ১২ বছরের কিশোর পবন যাদবকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বহু খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে রাতের বেলায় পরিত্যক্ত হুকুমচাদ জুটমিলের সেফটিক ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পরেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাঙ্কগুলিতে ও আশেপাশে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে মিল কর্তৃপক্ষকে। তবে কিশোরকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল নাকি আচমকা পড়ে গিয়ে ওই কিশোরের মৃত্যু ঘটল, তা ঘিরে তদন্ত করছে হালিশহর থানার পুলিশ। যদিও স্থানীয় কাউন্সিলের দাবি, ওই কিশোর পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে।
গত মাসের শেষে খাস কলকাতায় আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল। কলকাতা শহরে এক নির্মীয়মাণ আবাসনে শিশুর রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হয় নিখোঁজ শিশুর রক্তাক্ত মৃতদেহ। এন্টালি থানা এলাকার এক নিখোঁজ তিন বছরের শিশুর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তবে ঘটনাটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যায় ৪/৫১, কনভেন্ট লেনের বাসিন্দা রাজ কুমার রাজবংশী নামের এক ব্যক্তি তাঁর নাবালক পুত্র প্রীতম রাজবংশীর (৩) নামে এন্টালি থানায় গিয়ে নাবালক সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেখান থেকেই শুরু হয় পুলিশের তদন্ত। এন্টালি থানার পুলিশ সেই নাবালকের খোঁজে শুরু করে একপ্রকার চিরুনি তল্লাশি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, বুধবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে চারটা নাগাদ প্রীতম তার মা কাজল কুমারীর সঙ্গে ওই ঠিকানায় অবস্থিত একটি নির্মীয়মাণ জি+৩ তলা ভবনের ছাদে শুকনো কাপড় আনতে যায়। কাজ শেষে নামার সময় মা শিশুটিকে নিচে নামতে বলেন। কিন্তু তিনি নিচে পৌঁছনোর পর ছেলেকে আর খুঁজে পাননি।ঘটনার পরপরই আতঙ্কিত পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে, এন্টালি থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) নথিভুক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়।
তল্লাশি চলাকালীন ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে লিফটের জন্য তৈরি অংশের ভিতরে নিচের অংশ থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ উদ্ধার করে শিশুটিকে এরপর তৎক্ষণাৎ এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের অনুমান, উপর থেকে পড়ে যাওয়ার ফলেই এই আঘাত লেগে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।