রাজ্য বাজেটে মমতার সরকারের ভূয়সী প্রশংসা রাজ্যপালের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজ্যপালের বক্তৃতার মাধ্যমেই শুরু হয় বাজেট অধিবেশন। তবে বোসের বক্তৃতা শুরু হওয়ার আগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা। শাসক এবং বিরোধী শিবিরের স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান চলতে থাকে।
জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। তা শেষ হতে না হতেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ‘ভারত মাতা কী জয়’ ধ্বনি দেন। স্লোগান দেয় বিজেপি পরিষদীয় দলও। পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন তৃণমূলের বিধায়কেরাও। আর এসবের মধ্যেই বিধানসভায় বক্তৃতা শুরু করেন রাজ্যপাল।
বিধানসভায় সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন সিভি আনন্দ বোস। রাজ্য সরকারের নানা কাজের কথা ভাষণে তুলে ধরেন। তবে বক্তৃতার লিখিত খসড়া পুরোটা পাঠ করেননি তিনি। লিখিত বক্তৃতার প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠার কিছু অংশ পাঠ করেন রাজ্যপাল। এদিন সাড়ে চার মিনিটের বক্তৃতা দেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পুরোটা পাঠ না করায় তাঁকে অভিবাদন জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাততালি দিয়ে তাঁকে ‘ওয়েল ডান’ বলতেও শোনা গিয়েছে। পরে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘রাজ্যের তৈরির করা মিথ্যা ভাষণ পড়েননি রাজ্যপাল।‘
অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় নিজের ঘরে বলেন ‘রাজ্যপাল প্রথম সাড়ে চার মিনিট পড়েছেন। সেখানে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের পাওনার কথা লেখা ছিল, কোনও অসুবিধা নেই। তাতে তথ্য আছে। তথ্য ছাড়া যেখানে মিথ্যা ভাষণ আছে, সেটা উনি পড়েননি।’ শুভেন্দু আরও বলেন, ‘ সেখানে লেখা ছিল, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কেন্দ্রের জন্য হয়নি। এটা পুরোপুরি মিথ্যা। রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি। উনি মিথ্যা ভাষণ রাখেননি। ওঁর সাহস আছে। উনি উচিত কাজ করেছেন।’
বিরোধী দলনেতা আরও দাবি করেন, ‘রাজ্যপাল যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওঁকে প্রশ্ন করেন, উনি কেন পড়বেন না? উত্তরে রাজ্যপাল ওঁকে দেখান কী লেখা আছে, সেই জন্য তিনি পড়বেন না। এর পরে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলেন, জাতীয় সঙ্গীত হবে। তাঁকে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। রীতি মেনে জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পরে রাজ্যপাল বেরিয়ে যান।’