• 'গান্ধীহীন' ১০০ দিনের কাজে আর নয় কেন্দ্র-নির্ভরতা! মমতার 'স্বাবলম্বী' বাংলায় এবার মহাত্মাশ্রী প্রকল্প...
    ২৪ ঘন্টা | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের লড়াই দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এই প্রকল্পের নাম থেকে 'মহাত্মা গান্ধী'র নাম বাদ দিয়ে 'রাম' নাম যুক্ত করাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল রাজনীতি। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পাল্টা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের নিজস্ব 'কর্মশ্রী' প্রকল্পের নাম বদলে গত ডিসেম্বরেই রেখেছিল 'মহাত্মাশ্রী'। গান্ধীজির প্রতি শ্রদ্ধা এবং কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই নামবদল করা হয়েছিল।

    বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ১০০ দিনের কাজের জন্য আর কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকবে না রাজ্য। তাঁর প্রধান ঘোষণাগুলি হলো:

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত রবিবার পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ১০০ দিনের কাজ অর্থাৎ ‘ভিবি জিরামজি’ প্রকল্পের জন্য নতুন কোনো দিশা দেখাননি। ঠিক তার কয়েক দিনের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিজস্ব কোষাগার থেকে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে দিল্লির সরকারকে কড়া বার্তা দিল। মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্য নিজেই শ্রমিকদের বকেয়া মেটাবে। এদিনের বাজেট প্রস্তাব সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

    এই প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি পৌঁছে যাবে কয়েক লক্ষ গ্রামবাসীর কাছে। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে এই ঘোষণা বড় প্রভাব ফেলবে। চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরলে এই প্রস্তাবগুলি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

    বাজেট ঘোষণার পর প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর ‘মহাত্মাশ্রী’ হতে চলেছে রাজ্য সরকারের অন্যতম বড় তুরুপের তাস। একদিকে কেন্দ্রের ‘রাম’ নাম বনাম রাজ্যের ‘মহাত্মা’ বা ‘বাপু’র প্রতি শ্রদ্ধা— এই রাজনৈতিক সমীকরণে গ্রামীণ মানুষের রুটি-রুজির সংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকতে চাইছেন।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)