• হাইকোর্টের নির্দেশ...বিতর্কের মধ্যেই ৫০০ বাড়ল লক্ষ্মীর ভান্ডার! ভোটব্যাঙ্কের পাটিগণিতে কীভাবে 'খেলা' ঘুরিয়েছে এই লক্ষ্মীর ভান্ডার?
    ২৪ ঘন্টা | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: লক্ষ্মীবারে বাড়ল লক্ষ্মীর ভান্ডার। ৫০০ টাকা করে বাড়ল লক্ষ্মীর ভান্ডার। ফলে জেনারেল ক্যাটেগরির মহিলারা এখন থেকে পাবেন ১৫০০টাকা করে। অন্যদিকে এসসি/এসটি, ওবিসি মহিলারা পাবেন ১৭০০ টাকা করে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই লাগু হবে এই বর্ধিত টাকা।

    লক্ষ্মীর ভান্ডার কী?


    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের স্বপ্নের প্রকল্প এই লক্ষ্মীর ভান্ডার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি জনপ্রিয় আর্থিক সহায়তা প্রকল্প এই লক্ষ্মীর ভান্ডার। মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা-ই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ থেকে ৬০ বছর বয়সী রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।

    কবে থেকে চালু হয় লক্ষ্মীর ভান্ডার?


    ২০২১ সাল থেকে চালু হয় লক্ষ্মীর ভান্ডার। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে মহিলা ভোটারদের মন জয়ে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে এসে সেই কথা রাখেন তৃণমূল নেত্রী। চালু করেন লক্ষ্মীর ভান্ডার।

    ৫ বছরে ৫০০ থেকে ১০০০


    প্রথমে মাসে ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছিল লক্ষ্মীর ভান্ডারে। ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে সেই বরাদ্দ বাড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বরাদ্দ বাড়িয়ে জেনারেল ক্যাটেগরিতে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা এবং SC/ST মহিলাদের প্রতি মাসে ১,২০০ টাকা ভাতা করা হয়। 

    কীভাবে পাওয়া যায় লক্ষ্মীর ভান্ডার?


    লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা সরাসরি মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকে। 

    কীভাবে আবেদন করতে হয় লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য?


    দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা স্থানীয় প্রশাসনিক অফিসের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য আবেদন করা যায়। 

    লক্ষ্মীর ভান্ডার ও ভোটব্যাঙ্কের পাটিগণিত


    মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের লক্ষ্মীর ভান্ডার যে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কের বড় ভিত্তি, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। তাই এবার ছাব্বিশের ভোটের আগে মমতা যে লক্ষ্মীর ভান্ডারের বরাদ্দ বাড়াবেন, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কারণ, ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে একলাফে দ্বিগুণ করা হয় লক্ষ্মীর ভান্ডারের। আর তার সুফলও মিলেছিল ভোটবাক্সে। মহিলা ভোটাররা দু-হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছিল ঘাসফুলে। এবারও লক্ষ্মীর ভান্ডারে বরাদ্দ বাড়াতেই খুশি মহিলারা। বলছেন, আরেকটু সচ্ছ্বল হবে সংসার।

    লক্ষ্মীর ভান্ডারের মোট উপভোক্তা


    বর্তমানে ১ কোটি ৪১ লক্ষ মহিলা এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পান। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা। গত ৫ বছরে শুধুমাত্র এই প্রকল্পের মাধ্যমেই রাজ্যের মহিলাদের হাতে ৭৪ হাজার কোটি নগদ টাকার জোগান দিয়েছে মমতা সরকার। এখন ফের বিধানসভা ভোটের মুখে এই ভাতা বৃদ্ধিকে মমতার মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। 

    নির্বাচনে নির্ণায়ক লক্ষ্মীর ভান্ডার


    উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্যে মোট সাড়ে ৭ কোটি ভোটারের মধ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধাভোগী প্রায় ৩০ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক ভোটদাতার মন জয়ে এই ভাতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। মত ওয়াকিবহল মহলের। ভোটবাক্সের সমীকরণে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন দুর্নীতি ইস্যু থাকা সত্ত্বেও, এই লক্ষ্মীর ভান্ডার নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তৃণমূলের দিকে হাওয়া ঘুরিয়ে দিয়েছে।

    লক্ষ্মীর ভান্ডারের 'স্কচ' অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি


    উল্লেখ্য, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মুকুটে জুড়েছে ‘স্কচ’ পুরস্কারের পালকও। করোনার অতিমারী কালে রাজ্যের রোজগারহীন মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়ার জন্য ২০২২ সালে নারী ও শিশুকল্যাণ বিভাগে  'স্কচ' অ্যাওয়ার্ড পায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’। শিল্প, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে উৎকর্ষের জন্য প্রতি বছরই দেওয়া হয় 'স্কচ' পুরস্কার।

    লক্ষ্মীর ভান্ডার ও বিতর্ক, হাইকোর্টের নির্দেশ


    তবে পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত নয় মমতার এই 'লক্ষ্মীর ভান্ডার'। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার প্রায় ৭,০০০ মহিলা গত ৫ মাস ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা না পাওয়ায় বঞ্চনার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।  অভিযোগ, বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত হওয়ায় রাজনৈতিক কারণে ময়নার ওই মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভাতার টাকা পাচ্ছেন না। এই মামলায় রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)