জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে (West Bengal Interim Budget 2026) কল্পতরু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলার গিগ কর্মীদের জন্য 'রেড লেটার ডে' হয়ে থাকল। জোমাটো-সুইগি-অ্যামাজন-ফ্লিপকার্টের ডেলিভারি বয়রা এলেন 'স্বাস্থ্যসাথী'র আওতায়!
বিধানসভায় বিরাট ঘোষণা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর
বিধানসভায় এদিন বিরাট ঘোষণা করে দিলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এদিন বাজেট পেশ করার সময়ে তিনি বলেন, 'আমাদের সরকার অনলাইনে কেনা জিনিসের সরবরাহকে কেন্দ্র করে দ্রুত গড়ে ওঠা নতুন ‘গিগ-অর্থনীতি-র’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন। আমাদের রাজ্যে এই অর্থনীতির সঙ্গে এক বিশালসংখ্যক কর্মী যুক্ত। এই সমস্ত গিগ-কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সকল গিগ-কর্মীদের সরকারের চালু সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় (যেমন স্বাস্থ্যসাথী) আনা হবে।গিগ শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নেই। আমরা আমাদের সামাজিক সুরক্ষায় আনছি। আমরা পোর্টাল করছি। সেখানে তাদের আবেদন করতে বলব।' পাশাপাশি গিগ কর্মীদের ১০০০ টাকা করে ভাতাও বাড়ছে।
গিগ ইকোনমি কী ও গিগ কর্মী কারা?
গিগ ইকোনমি এমন এক বাজার ব্যবস্থা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী চাকরির বদলে স্বল্পমেয়াদী চুক্তি বা ফ্রিল্যান্স কাজের প্রাধান্য থাকে। যেমন অনলাইন ডেলিভারি (জোমাটো-সুইগি-অ্যামাজন-ফ্লিপকার্টের ), রাইড শেয়ারিং (ওলা-উবার)। গিগ কর্মী হলেন সেই সব ব্যক্তি যাঁরা কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্থায়ীভাবে কাজ না করে স্বাধীন ভাবে বা চুক্তিতে কাজ করেন। তাদের কাজের সময় এবং ধরন সাধারণত তাঁরাই নির্ধারণ করেন। অ্যাপ-ভিত্তিক চালক ও ডেলিভারি পার্সনদের সঙ্গেই ফ্রিল্যান্সার (গ্রাফিক ডিজাইনার, ওয়েব ডেভেলপার বা কন্টেন্ট রাইটার, যাঁরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন), পরামর্শক বা কনসালট্যান্টরা (যাঁরা নির্দিষ্ট প্রজেক্টে বিশেষজ্ঞ মতামত বা সেবা দেন) ও গৃহস্থালি সেবা (যাঁরা পার্ট-টাইম ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার বা ক্লিনিং সার্ভিস প্রদান করেন) রয়েছেন তালিকায়।
ভারতে গিগ অর্থনীতি ঠিক কোথায়?
ভারতের ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে গিগ অর্থনীতি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভারতের শ্রমবাজারে যা কেবল বিকল্পই নয়, বরং আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। ২০২৫-২৬ সাল নাগাদ ভারতে গিগ কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষে পৌঁছেছে। নীতি আয়োগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২.৩৫ কোটিতে পৌঁছাবে। ভারতের মোট জিডিপিতে গিগ অর্থনীতির অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে খুচরা বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং আইটি পরিষেবায় এর প্রভাব সবথেকে বেশি। বিগত চার বছরে ভারতে গিগ কর্মীদের সংখ্যা ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। ৭৭ লক্ষ (অর্থবর্ষ ২০২১) থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষে (অর্থবর্ষ) দাঁড়িয়েছে। দেশে দ্রুত বেড়ে ওঠা গিগ অর্থনীতি যেমন বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনই আবার বিপরীত দিকটাও দেখতে হবে। গিগ কর্মীদের আয়ের কোনও নিশ্চয়তা নেই এখনও। আর্থিক নিরাপত্তার অভাবের সঙ্গেই জুড়েছে ঋণ পাওয়ার জটিলতা। এখনও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গিয়েছেন গিগ কর্মীদের বড় অংশ।