জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের কোষাগারে বড় ধাক্কা। বকেয়া ডিএ আদায়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। সেই মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। বাকী রইল ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ। সেই টাকা মেটানোর জন্য অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির নেতৃত্বে ৪ সদস্যর কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি গঠন করতে হবে ৬ মার্চের মধ্যে। ৩১ মার্চের মধ্যে ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি দিতে হবে। ১৫ এপ্রিল কার্যকর রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জমা দিতে হবে। রোপা এবং এআইসিপিআই মেনে ডিএ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র পার্থক্য় বিস্তর। প্রায় ৪০ শতাংশ তফাত রয়েছে দুই সরকারের ডিএর মধ্যে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিল তার বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত। ডিএ হার বৃদ্ধির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই ।
আগেও রাজ্য সরকারকে তার কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে বলেছিল। গত বছর ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকরি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। রাজ্য সরকারের তরফে বলা হয়ে বিপুল পরিমাণ বকেয়া ওই ডিএ দেওয়া রাজ্য সরকারের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ২০০৮ এর অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে যে বকেয়া ছিল তার মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একপ্রকার সেই রায়ই বহাল রাখল সর্বোচ্চ আদালত।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ডিএ পান ৫৮% হারে। আর রাজ্য সরকারের কর্মীরা ডিএ পান ১৮% হারে। ফলে বর্তমানে কেন্দ্র-রাজ্য ডিএর ফারাক ৪০%। আর অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকল হলে কেন্দ্রের ডিএর হার আরও ২% বেড়ে যাবে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে তাতে রাজ্য সরকার যদি ৩১ মার্চের মধ্যে ওই ২৫ শতাংশ মেটাতে ১০,০০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে।
PRSIndia-র ২০২৪-২৫ সালের বাজেট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বার্ষিক মোট ব্যয় (ঋণ পরিশোধ ব্যতীত) প্রায় ৩,০৪,৬৮৯ কোটি টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে রাজ্যের গড় খরচ প্রায় ২৫,৩৯০ কোটি টাকার বেশি। এর সাথে প্রতি বছর প্রায় ৬১,৪২৭ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের দায়বদ্ধতাও রয়েছে।
কী ভাবে ডিএ ঠিক করা হয়-
সাধারণভাবে বলতে গেলে, জিনিসপত্রের দাম বা মুদ্রাস্ফীতি কতটা বেড়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই DA ঠিক করা হয়। তার আগে কিছু টার্ম জেনে নেওয়া দরকার।
CPI-IW Average। এটি হল গত ১২ মাসের 'উপভোক্তা মূল্য সূচক' (Consumer Price Index)-এর গড়। সহজ কথায়, সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত জিনিসের দাম বাজারে কেমন ছিল, সরকার সেই তথ্য ব্যবহার করে।
২৬১.৪২ (Base Value)। এটি হল ২০১৬ সালের ভিত্তি মূল্য। সপ্তম বেতন কমিশনের সময় জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত জিনিসের দামের যে গড় ছিল, তাকেই ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
২.৮৮ (Multiplier)। এটি একটি বিশেষ গুণক। ২০২০ সালে যখন হিসাবের নতুন নিয়ম চালু হয়, তখন পুরোনো সূচকের সাথে নতুন সূচকের সামঞ্জস্য রাখতে সরকার এই সংখ্যাটি নির্ধারণ করে দেয়।
সূত্রটি যেভাবে কাজ করে
১. প্রথমে ১২ মাসের গড় বাজারদরকে (CPI-IW) ২.৮৮ দিয়ে গুণ করা হয়।
২. সেই গুণফল থেকে ভিত্তি মূল্য ২৬১.৪২ বিয়োগ করা হয়।
৩. বিয়োগফলকে আবার ২৬১.৪২ দিয়ে ভাগ করা হয়।
৪. সবশেষে ১০০ দিয়ে গুণ করে বের করা হয় আপনার মূল বেতনের কত শতাংশ টাকা DA হিসেবে পাবেন।