জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'ডিএ সরকারি কর্মচারীদের অধিকার'। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এবার সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বললেন, 'আমরা রায়ের কপি এখনও হাত পাইনি। পড়ে দেখতে হবে। রায় নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না'।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শেষ হাসি হাসলেন রাজ্য় সরকারী কর্মচারীরাই। স্রেফ বকেয়া ডিএ মেটানোই নয়, রাজ্য সরকারকে এবার কার্যত ডেডলাইম বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিতে দিতে হবে এবং ১৫ মে-র মধ্যে রাজ্য প্রশাসনকে রিপোর্টও জমা দিতে হবে আদালতে। বাকি বকেয়ার ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এদিন বিধানসভায় বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'যে কমিটি গড়ার কথা বলা হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা আছেন। পশ্চিমবঙ্গের কোনও প্রতিনিধি নেই। আমরাও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছি। তাঁদের মতামত অনুযায়ী কাজ করব'। তাঁর কথায়, ‘আর কোনও রাজ্যে পেনশন দেওয়া হয় না। পশ্চিমবঙ্গে যা পাওয়া যায়, আর কোথাও পাওয়া যায় না। পেনশন বন্ধ করে দিলে আমার অনেক টাকা বেঁচে যেত। কিন্তু যাঁরা পেনশনের উপর নির্ভরশীল, তা হলে তাঁরা কী করবেন'?
এদিকে ডিএ মামলায় যেদিন রায়দান হল সুপ্রিম কোর্টে, সেদিনই বাজেটে সরকার কর্মচারীদের ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথাও ঘোষণা করল রাজ্য। ১৮ শতাংশ নয়, এপ্রিল মাস থেকে রাজ্য় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বেড়ে হবে ২২ শতাংশ। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকরী কর্মচারীদের ডিএ-র ব্যবধান এখনও ৩৬ শতাংশ।
ডিএ বা বাংলায় যাকে বলে মহার্ঘ ভাতা, সেটা আসলে কী? মূল্য়বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিতে কর্মচারীদের মূল বেতনের ভিত্তি করে ভাতা দেয় সরকার। সেই ভাতাই হল ডিএ। এখন সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার রেওয়াজ বহুদিনের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে ডিএ দেওয়া হত। তবে সেটা অবশ্য ছিল খাদ্যের ভাতা। স্বাধীনতার আগের বছর থেকে সরকারি কর্মীদের জন্য এই ডিএ বা বর্ধিত ভাতার ঘোষণা করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের ডিএ কিন্তু আলাদা। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি বছর ৬ মাস অন্তর ২ বার ডিএ বৃদ্ধি ঘোষণা করে থাকে। একবার জানুয়ারি মাসে, আর তারপর জুলাই মাসে। রাজ্য়গুলি মূলত কেন্দ্রকে অনুসরণ করে ডিএ-র হার ঠিক করে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র ফারাক অনেকটাই।