এই সময়, এগরা: এগরা পুরসভা নিয়ে বিতর্ক যেন থামতে চাইছে না। বৃহস্পতিবার কাউন্সিলারদের নিয়ে এগরার মহকুমা শাসকের ডাকা বিশেষ বৈঠক ঘিরে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিন মিটিং শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে তা স্থগিত হয়ে যায় হাইকোর্টের নির্দেশে। তৃণমূলের অবশ্য দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ পুরসভায় এসে পৌঁছনোর আগেই এদিন বৈঠক শেষ হয়ে গিয়েছিল। সরকারি জমি লিজ দেওয়া নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে পুর চেয়ারম্যান স্বপন নায়েক বর্তমানে জেল হেফাজতে।
স্বপন জেলে যওয়ার পর থেকে এগরা পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পুরসভার প্রশাসনিক কাজ থমকে। থমকে নাগরিক পরিষেবাও। পুরসভায় অচলাবস্থা কাটাতে ৫ ফেব্রুয়ারি এগরা পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলারদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকেন এগরার মহকুমা শাসক। ৩১ জানুয়ারি এই বিশেষ মিটিংয়ের নোটিস পুরসভার ১৪ জন কাউন্সিলারের কাছে পাঠানো হয়। ২ ফেব্রুয়ারি মিটিংয়ের নোটিস হাতে পান কাউন্সিলাররা। বৃহস্পতিবার বৈঠকে ১৪ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক চলাকালীন বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কপি পুরসভায় পৌঁছয়। এর পরেই বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। যদিও পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার ও এগরা শহর তৃণমূল সভাপতি জয়ন্ত সাউর দাবি, 'স্থগিতাদেশের বিষয়ে আমি জানি না।' তিনি বলেন, 'মহকুমা শাসকের ডাকা মিটিং শেষ হওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশ এসেছে বলে শুনেছি। তাই যে সব বিষয় নিয়ে মিটিং ডাকা হয়েছিল সেই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।' বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, আদালতের নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মহকুমা শাসক সভা চালিয়ে গিয়েছেন। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কপি আসার পরেও সভা বন্ধ করা হয়নি।
বিজেপি কাউন্সিলারদের জোর করে মিটিং হলে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মোবাইল নিয়ে মিটিংয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিজেপির এগরা নগর মণ্ডল সভাপতি চন্দন মাইতি বলেন, 'মহকুমা শাসকের ডাকা মিটিং অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করে এগরা পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার তথা বিরোধী দলনেতা অম্বিকেশ দাস হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে।' মহকুমা শাসক করমবীর কেশব বলেন, '৯ মার্চ পর্যন্ত হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে এদিনের মিটিং স্থগিত হয়ে গিয়েছে। ৯ মার্চের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।'