• সেস সংগ্রহ সত্ত্বেও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কমিয়েছে কেন্দ্র! বলছে বাজেট নথিই
    বর্তমান | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্য কেমন? স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বরাদ্দ দেখলেই তা বোঝা যায়! সংসদে সাধারণ বাজেট পেশের দিন লোকাল ট্রেনের কামরায় উড়ে এসেছিল এই সরস উক্তি। রসিক বটে সেই যাত্রী! কিন্তু সরল সেই রসিকতা সত্যিই কি ইঙ্গিতবাহী? সরকারি পরিসংখ্যানেই মিলছে তাৎপর্যপূর্ণ একঝাঁক তথ্য। ২০১৮ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বাজেটে স্বাস্থ্য সেস চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সুনির্দিষ্টভাবে স্বাস্থ্যখাতে খরচের জন্যই ওই সেচ চালু হয়েছিল। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সেই সেসের টাকা সংগ্রহের আগে পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে কেন্দ্র যে পরিমাণে অর্থ ব্যয় করত, সেস চালুর পর তার পরিমাণ বাড়েনি। বরং কমে গিয়েছে। স্বাস্থ্য সেস বসিয়ে বাড়তি অর্থ সংগ্রহ করা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমিয়েছে মোদি সরকার। বাজেটের মোট বরাদ্দ ও দেশের জিডিপি— সেস চালুর পরও দুই নিরিখেই স্বাস্থ্যখাতে খরচের অনুপাত কমিয়েছে কেন্দ্র।২০১৮ সালে স্বাস্থ্য সেস চালুর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে মোট সরকারি খরচের ২.৪ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু এবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীমারামনের বাজেট প্রস্তাবে দেখা যাচ্ছে, সেসের অর্থ ধরেও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে স্বাস্থ্যে বরাদ্দের পরিমাণ কমে ১.৯ শতাংশ হয়েছে। অথচ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ খাতে বরাদ্দের ৩০ শতাংশই সরকারের ঘরে আসবে ওই স্বাস্থ্য সেস থেকে। সেই অর্থ বাদ দিয়ে হিসাব করলে ২০২৬-২৭ সালে স্বাস্থ্যে বরাদ্দের পরিমাণ কমে হবে মাত্র ১.২ শতাংশ। অর্থাৎ সেস চালুর আগে যা বরাদ্দ হয়েছিল (২.৪ শতাংশ), সেস বাবদ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ সংগ্রহ করা সত্ত্বেও বরাদ্দ কমে তার প্রায় অর্ধেক হয়ে পড়েছে। শুধু বাজেট বরাদ্দ নয়, মোট জিডিপির নিরিখেও স্বাস্থ্যে খরচের পরিমাণ কমেছে। সেস চালুর আগে জিডিপির ০.২৮ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ হয়েছিল। কেন্দ্র সেস বসানো সত্ত্বেও সেটাই কমে হয়েছে ০.২৬ শতাংশ।এ তো গেল শতাংশের হিসাব। টাকার অঙ্কে বিষয়টি কেমন দাঁড়াচ্ছে? একেবারে সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্যে বরাদ্দ হয়েছিল ৯২ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। এর থেকে সেস বাবদ সংগৃহীত অর্থ বাদ দিলে পরিমাণটা কমে দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ২৭৯ কোটি টাকায়। একইভাবে ২০২৬-২৭ সালের সদ্য পেশ হওয়া বাজেট প্রস্তাব থেকে সেসের অর্থ বাদ দিলে তা গতবারের থেকেও কমে দাঁড়াবে ৭০ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সেসের অর্থ বাদ দিলে স্বাস্থ্যখাতে এবারের বরাদ্দের পরিমাণ গতবারের থেকেও ৯.৩ শতাংশ কম। আবার অন্যভাবে দেখলে, ২০১৭ সালের মতো (সেস চালুর আগে) এবারও যদি বাজেটের ২.৪ শতাংশ অর্থ স্বাস্থ্যে বরাদ্দ হত, তাহলে তার পরিমাণ হওয়া উচিত ছিল ১.২ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু সেসের টাকা ধরেও এবার বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র ১ লক্ষ কোটি।
  • Link to this news (বর্তমান)