সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: সকাল ১১টায় ঘড়ি ধরে ঠিক এক মিনিট। বেলা ১২টায় ছ’মিনিট। দুপুর দুটোর সময় আবার দু’মিনিট। আর বিকেল তিনটেয় চার মিনিট চলার পরেই সারাদিনের জন্য মুলতুবি করে দেওয়া হল লোকসভা। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সাকুল্যে লোকসভা চলল ১৩ মিনিট। এদিনই লোকসভায় বাজেট নিয়ে চর্চা শুরুর পরিকল্পনা করেছিল সরকার। কিন্তু এককাট্টা বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে চেষ্টা করেও সভা চালাতে পারলেন না স্পিকার ওম বিড়লা। তাই রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব কোনোরকমে সংশোধনী ছাড়াই ‘ধ্বনি ভোটে’ পাশ করিয়ে নেওয়া হয়। জবাবি ভাষণ এড়িয়ে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভাতেও আসেননি। লোকসভার ইতিহাসে যা নজিরবিহীন।লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বলতে না দেওয়ার প্রতিবাদে একজোট হয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ জারি রাখল বিরোধী দলগুলি। অন্যদিকে, সরকারও অনড় থেকে চেষ্টা চালাল বাজেট নিয়ে চর্চা শুরু করতে। কিন্তু তৃণমূলের এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভ, সমাজবাদী পার্টির বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে অহল্যা বাঈয়ের প্রতিষ্ঠিত মন্দির বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ভারত-চীন সীমান্তে ডোকা লায় লাল ফৌজের আগ্রাসন রুখতে মোদির ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদে উত্তাল লোকসভা। এদিন যতবার সভা বসেছে, ততবারই ১০ ফুট লম্বা ফেস্টুন হাতে কংগ্রেসের মহিলা বাহিনী ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। সমবেত হয়েছে তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, সিপিএম, আরএসপি সহ বিরোধী দলগুলি। বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর আগেই কংগ্রেসের ডাকা বিরোধীদের বৈঠকে তৈরি হয় স্ট্র্যাটেজি। সংসদ ভবনে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের ঘরে বসে বিরোধীদের বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের লোকসভার উপদলনেত্রী শতাব্দী রায়। বহুদিন পর কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে হাজির হল তৃণমূল। পরে লোকসভার অন্দরেও দেখা যায় কংগ্রেস-তৃণমূল সখ্যের ছবি। নিজের আসন ছেড়ে তৃণমূল বেঞ্চের কাছে এসে জোড়াফুলের সাংসদের সঙ্গে খোশগল্প করতে দেখা যায় রাহুলকে। রাজ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক হলেও সংসদে বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূল বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’তেই থাকবে বলে দলকে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমতো তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলীয় সাংসদদের জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদে বিরোধীদের শক্তি বাড়াতে হবে। বিরোধী বিক্ষোভে ওয়েলেও নামবে দল। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন বারবার ওয়েলে নামতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল সাংসদদের। ঠিক হয়েছে, আজ শুক্রবারও লোকসভা চলতে দেওয়া হবে না। সোমবার থেকে বাজেট আলোচনায় অংশ নেবে তৃণমূল। এদিকে, কেন লোকসভায় মোদি জবাবি ভাষণ এড়ালেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্পিকারকে চিঠি দিলেন কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল।