• খাদ্য, গ্যাস ও সারে ভরতুকি বন্ধ করার পথে কেন্দ্র? গঠন হচ্ছে রিভিউ কমিটি
    বর্তমান | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: সব ধরনের কেন্দ্রীয় ভরতুকি কমাতে হবে। খাদ্য হোক, সার বা রান্নার গ্যাস। একবার কোনো ভরতুকি চালু হলে সেটি অন্তহীন সময়ের জন্য চলতেই থাকে। এটা হতে পারে না। এই ‘প্রবণতা’ কমানো এবং ক্রমেই বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটতে হবে। ষোড়শ অর্থ কমিশন কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে এই মর্মেই সুপারিশ করেছে তাদের রিপোর্টে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, ষোড়শ অর্থ কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করছে কেন্দ্র। এরপরই জানা যাচ্ছে, ভরতুকি কীভাবে ধাপে ধাপে কমিয়ে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া যায়, তার একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ নেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েই ফেলেছে। যে তিনটি খাতে কেন্দ্র সবথেকে বেশি ভরতুকি দিয়ে থাকে, সেগুলি হল, পেট্রপণ্য, সার এবং গণবণ্টনে বিনামূল্যে চালগম।ষোড়শ অর্থ কমিশনের রিপোর্ট পেশ হওয়ার আগেই মোদি সরকার নিজেদের এই আর্থিক দায়ভার ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের বাজেটে গরিব কল্যাণ যোজনা এবং সার ভরতুকির বরাদ্দ কমেছে। আগামী দিনে আরও কমানো হবে। এজন্য রিভিউ কমিটি গঠন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যয়বরাদ্দ বিভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এক ধাক্কায় সব ভরতুকি বন্ধ করা যাবে না। সরকারের একটা দায় আছে। কিন্তু কীভাবে ভরতুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়া যায়, সেটি স্থির করতেই কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রকের অধীনস্থ খাদ্য ও গণবণ্টন বিভাগ, সার দপ্তর এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ভরতুকির বিকল্প খুঁজতে আরও বেশি ডেটা, প্রযুক্তি, এবং ম্যাপিংয়ের সাহায্য নিয়ে নতুন এক রূপরেখা তৈরি হবে। মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। পাশাপাশি ব্রিটেন ও ইউরোপের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যাতে ধীরে ধীরে ভরতুকি বন্ধ হয়। প্রাথমিক কিছু অগ্রগতির পর ‘সানসেট ক্লজ’ ঘোষণা করা হতে পারে। অর্থাৎ, ঠিক কবে থেকে ভরতুকি আনুষ্ঠানিকভাবেই কমিয়ে দেওয়া হবে তার একটি আগাম লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা।ইতিমধ্যেই এগ্রি স্ট্যাক নামক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশে। এই প্ল্যাটফর্ম পরিসংখ্যান দেবে, কোন এলাকায় কত জমিতে আদৌ কত সার লাগবে। মোদি সরকারের গালভরা দাবি, ২৫ কোটি দেশবাসীকে দারিদ্রসীমার বাইরে নিয়ে এসেছে তারা। অথচ তাদের বিনামূল্যে খাদ্যশস্যও দেওয়া হচ্ছে! এই দ্বিচারিতাই বেজায় অস্বস্তির। তাই এই রিভিউ কমিটি পর্যালোচনা করবে—গরিব কল্যাণ যোজনা কোন রাজ্যে কতটা প্রয়োজন। যদিও ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশের জন্য মোদি সরকার অপেক্ষা করে ছিল, এমনও নয়। ২০২৬ সালের বাজেটে খাদ্য ভরতুকি দেওয়া হয়েছে ২ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি টাকা। সেটাই আগের বছর ছিল ২ লক্ষ ২৮ হাজার কোটি। ২০২৫ সালে সার ভরতুকি ছিল ১ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। অথচ, এ বছর তা একধাক্কায় কমিয়ে করা হয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি। একইভাবে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর পর্যালোচনা করা হবে জ্বালানি ব্যয় কত হচ্ছে। তারপর সেই ভরতুকিও কমবে।
  • Link to this news (বর্তমান)