• হারানো জমি পুনরুদ্ধারে জোর, নাটাবাড়ি কেন্দ্রেই দিনে ১০ ঘণ্টা পড়ে থাকছেন রবি
    বর্তমান | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে নাটাবাড়ি বিধানসভায় দিনে প্রায় আট-দশ ঘণ্টা মাটি কামড়ে পড়ে থাকছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কোচবিহারের রাজনীতিতে এবার যে তাঁর অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই! নাটাবাড়ির হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে পারলেই আবার রাজনীতিতে তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল হবে। তাই নাম যজ্ঞ, তারকব্রহ্ম নাম, হরিনাম সংকীর্তন থেকে শুরু করে বুথে বুথে জনসংযোগ, পুরনো কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করার কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে করে চলেছেন তিনি।বেলা ১২টার মধ্যে কোচবিহার থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যাচ্ছেন নাটাবাড়ি। দিনভর সেখানেই কাটিয়ে তিনি ফিরছেন রাতে। ৭০ ছুঁই ছুঁই রবিকে এখন আর কোচবিহার শহরে প্রায় দেখাই যাচ্ছে না। পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ খুঁইয়েছেন তিনি। কিন্তু দল তাঁকে নাটাবাড়ি, তুফানগঞ্জ ও কোচবিহার উত্তর বিধানসভার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দিয়েছে। তাই নাটাবাড়ির পাশাপাশি বাকি দুই বিধানসভা এলাকাতেও তিনি নিয়মিত সময় দিচ্ছেন। নাটাবাড়ি বিধানসভার ৩০০ বুথে দু’বার করে জনসংযোগ সারবেন রবি। এটাই তাঁর লক্ষ্য। তাই দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছেন গ্রামের পর গ্রাম।রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, আমি নিয়মিত নাটাবাড়ি বিধানসভায় বুথ স্তরে প্রচার, জনসংযোগ চালাচ্ছি। বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে মানুষের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে জনসংযোগ স্থাপন ও দলের কথা তুলে ধরছি।নাটাবাড়ি বিধানসভা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের খাসতালুক বলেই পরিচিত। বহুবার তিনি এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। কয়েকবার হেরেছেন। কিন্তু এই বিধানসভা থেকে জয়ী হয়েই তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী হয়েছিলেন। আবার এখান থেকে হেরেই তাঁকে মন্ত্রিত্ব খোয়াতে হয়েছিল। এই বিধানসভা কেন্দ্রেই যেহেতু তাঁর পৈতৃক ভিটা, বেড়ে ওঠা ও রাজনীতিতে হাতেখড়ি তাই এই জায়গাকে তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে পরাজিত হওয়ার পরেও কিন্তু তিনি নিয়মিত এই কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন। এবার পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ খোয়ানো ও দলের পক্ষ থেকে তিন বিধানসভার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পেয়েই নাটাবাড়ি বিধানসভায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন দুঁদে এই রাজনীতিবিদ। তিনি নিজেও জানেন এবার তাঁর সামনে কঠিন পরীক্ষা। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)