নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য থেকে ৩০ হরিণ পাঠানো হবে বক্সা অভয়ারণ্যে। যে কারণে আগামী দশদিন বন্ধ থাকবে নদীয়া জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য। বৃহস্পতিবার অভয়ারণ্যের প্রধান প্রবেশদ্বারে নোটিস ঝুলিয়ে বনদপ্তরের তরফে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বনদপ্তর সূত্রে খবর, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য।বনদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যেই বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য থেকে মোট ৩০টি হরিণ আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা অভয়ারণ্যে পাঠানো হবে। বনদপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, বক্সা অভয়ারণ্যে ভবিষ্যতে বাঘ সংরক্ষণের পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই এই হরিণ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাঘের খাদ্যচক্রকে মজবুত করতেই মূলত বেথুয়াডহরি থেকে হরিণ বক্সায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্যের ভিতরে প্রায় ২২০টি হরিণ রয়েছে।বনদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগ নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার বেথুয়াডহরি থেকে হরিণ বক্সা অভয়ারণ্যে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে হরিণ স্থানান্তরের আগে বনদপ্তরের তরফে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। সেই সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই হরিণ স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বনদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালে বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্যে হরিণের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৮৬টি।বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্যে হরিণের সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে হরিণদের শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আগাম ব্যবস্থা হিসেবে কিছু হরিণ অন্য অভয়ারণ্যে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বনদপ্তর।অন্যদিকে, বক্সা অভয়ারণ্য ও বক্সা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টকে ঘিরে বনদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও স্পষ্ট। জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে সেখানে বাঘ আনার প্রস্তুতি চলছে। সেই লক্ষ্যেই বাঘ ও হরিণকে একই প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখার উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। বনদপ্তরের দাবি, বক্সা টাইগার রিজার্ভে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস থাকায় সেখানে হরিণের খাদ্যের কোনও অভাব হবে না। বরং হরিণ ও অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে বাঘ সংরক্ষণের কাজ আরও সহজ হবে।বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, হরিণ স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেই কারণেই এই সময়ে বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভয়ারণ্য বন্ধ থাকায় আপাতত পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য। বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য।-নিজস্ব চিত্র