• নন্দকুমারে বধূকে কিডনি বিক্রিতে চাপ, অত্যাচারের মামলায় চার্জশিট পুলিশের
    বর্তমান | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দুঃস্থ ও অভাবী বধূদের কিডনি সামান্য টাকায় কিনে মোটা অর্থের বিনিময়ে তা বিক্রি করা হতো রোগীদের। নন্দকুমারের এক গৃহবধূকে কিডনি বিক্রিতে রাজি করানোর জন্য তাঁর স্বামীর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের মামলায় এমনই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছিল। ওই ঘটনায় বধূর স্বামী এবং কিডনি বিক্রির এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সেই মামলায় চার্জশিট পেশ করল নন্দকুমার থানার পুলিশ। তদন্তকারী অফিসার রঞ্জিত মান্না ওই মামলায় পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে চার্জশিট জমা করেছেন। অভিযুক্ত দু’জনেই এই মুহূর্তে শ্রীঘরে। তাদের হেপাজতে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় পুলিশ।পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টের সরকারি আইনজীবী সফিউল আলি খান বলেন, কিডনি বিক্রির জন্য চাপ ও হেনস্তার ঘটনায় নন্দকুমার থানার পুলিশ চার্জশিট পেশ করেছে। এর ফলে সিজেএম কোর্ট থেকে ধৃতদের জামিনের সুযোগ রইল না। ওই মামলায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।গত ২ নভেম্বর নন্দকুমার থানার কুমোরপাড়া গ্রাম থেকে কার্তিক চক্রবর্তী নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কার্তিক তমলুক শহরে শঙ্করআড়া বাজার এলাকায় একটি প্যাথলজি ল্যাব চালাত। নিজের স্ত্রী দেবযানী সামন্তকে কিডনি বিক্রির জন্য লাগাতার চাপ দিত। ১১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে স্ত্রীর কিডনি বিক্রির চূড়ান্ত কথাবার্তা সেরে নিয়েছিল। এজন্য এজেন্টের কাছ থেকে অগ্রিম টাকাও নিয়েছিল। কিডনি বিক্রির জন্য স্ত্রীর শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে বেশ কয়েকবার কলকাতার নামী বেসরকারি হাসপাতালেও গিয়েছিল। কিন্তু, কার্তিকের স্ত্রী কিডনি দিতে রাজি ছিলেন না। তাঁকে কিডনি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। অরাজি হওয়ায় শারীরিক অত্যাচারও চলছিল। শেষমেশ থানার দ্বারস্থ হন ওই বধূ। তিনি এফআইআর করার পর দিন নন্দকুমার থানার পুলিশ কার্তিককে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলার তদন্তে নেমে ২২ ডিসেম্বর নন্দকুমার থানার পুলিশ খেজুরি থানা এলাকা থেকে মিলন পাত্র নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি খেজুরি থানার বাঁশগোড়া সংলগ্ন বালিচক গ্রামে। অভিযোগ, মোটা কমিশনের লোভে সে পূর্ব মেদিনীপুরে বিভিন্ন জায়গায় দুঃস্থ ও অভাবী বধূদের খুঁজে বেড়াত। একটি কিডনি প্রতিস্থাপন হলে তার কমিশন জুটত দেড় থেকে দু’ লক্ষ টাকা। নন্দকুমারের কার্তিক স্ত্রীর কিডনি বিক্রির জন্য ওই মিডলম্যানের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিল। অসহায় ও দুঃস্থ বধূদের স্বামীদের বিপুল অর্থের লোভ দেখানো হতো। স্বামীকে দিয়ে বধূর উপর চাপ বাড়ানো হতো। এই মুহূর্তে দু’জনেই জেলবন্দি।২০২২ সালে ১৫ মার্চ নন্দকুমার থানার কুমোরআড়ার বাসিন্দা কার্তিক ভালোবেসে বিয়ে করেছিল মহিষাদল থানার বেতকুণ্ডুর দেবযানী সামন্তকে। দেবযানী অঙ্কে বিএসসি পাশ। ২০২০ সাল নাগাদ তিনি তমলুক শহরে একটি নার্সিংহোমে মায়ের অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। মায়ের শারীরিক বেশকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে গিয়ে প্যাথলজিতে কার্তিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপর তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই বাড়ির মধ্যে দেখাশোনা করে বিয়ে হয়। কিন্তু, বিয়ের পর দেবযানী শ্বশুরবাড়িতে পা রাখা মাত্র যৌতুক দেওয়ার জন্য চাপ আসে। ক্লাস নাইনে পড়ার সময় বাবাকে হারান দেবযানী। তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাড়িতে টিউশনি পড়াতেন। সেই টাকায় সংসার চলত। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তাঁর কিডনি বিক্রি করে টাকা আদায়ের প্ল্যান করেছিল গুণধর স্বামী।
  • Link to this news (বর্তমান)