পরিকল্পনার অভাবে রানাঘাট শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থা বেসামাল
বর্তমান | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পরিকল্পনার অভাব, প্রশিক্ষণহীন কর্মী এবং নজরদারির ঘাটতি, এই তিনে মিলে রানাঘাট শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা এখন কার্যত বেসামাল। দিনের পর দিন যানজট, অনিয়ন্ত্রিত টোটো ও বাড়তে থাকা দুর্ঘটনায় নাজেহাল শহরবাসী। সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যুতে ফের সামনে এসেছে পুরসভার যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার করুণ বাস্তব চিত্র।রানাঘাট শহরের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরসভার তরফে একাধিক পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও, বাস্তবে তার প্রভাব তেমন চোখে পড়ে না। এমনটাই অভিযোগ শহরের নাগরিকদের। প্রতিদিন অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে পথচারীরা যানজটের পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বর্তমানে প্রায় শতাধিক অস্থায়ী কর্মীকে তিন দফায় যান নিয়ন্ত্রণের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি এই দলে বেশ কয়েকজন মহিলাকর্মীকেও যুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠছে, দায়িত্ব দেওয়ার আগে তাঁদের কোনও প্রশিক্ষণই দেওয়া হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, এই প্রশিক্ষণের অভাবেই গোটা যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যত এলোমেলো হয়ে পড়েছে। চৌরঙ্গি মোড়, ছোটো বাজার কিংবা রথতলা রেলগেট, এই সব ব্যস্ত এলাকায় চারম যানজট হলেও কর্তব্যরত পুরকর্মীদের কোনও হেলদোল থাকে না। দেখা যায় কেউ মোবাইল ফোনে ব্যস্ত, আবার কেউ আশপাশের দোকানে দাঁড়িয়ে গল্পগুজবে মেতে রয়েছেন। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বদলে আরও জটিল আকার নেয়।ব্যবসায়ীদের অভিযোগও কম নয়। তাঁদের দাবি, সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে অনেক সময় পুরসভার কর্মীরাই অনিচ্ছাকৃতভাবে যানজট বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। এই অবস্থার মধ্যেই সম্প্রতি শহরের দক্ষিণ পাড়া মোড়ে ব্যস্ত সময়ে লরির ধাক্কায় শিশুমত্যুর ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এর আগেও একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক দুর্ঘটনা সত্ত্বেও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলছেন নাগরিক সমাজ। শনিবার রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যানজট সমস্যা নিয়ে শীঘ্রই বৈঠক ডাকা হবে এবং পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এই আশ্বাস বাস্তবে কতটা রূপ পায়, সেদিকেই এখন নজর শহরবাসীর।