নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বিজেপির লেজেগোবরে দশা চলছেই। বুধবার দুপুরে রাজ্যের নেতানেত্রীদের এনে চুঁচুড়ার বিধায়কের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে বিজেপি। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রকাশ্যে আসতেই ভোটের দামামা কার্যত বেজে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ওইসঙ্গে এই চার্জশিটের ‘চার্জ’-এর ওজন নিয়ে ঘরে-বাইরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিকভাবে পালটা জবাব দিতেও মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বিপদ একটাই, ওই কর্মসূচি নিয়ে হাসাহাসি শুরু হয়েছে বিজেপিরই অন্দরে। বিজেপির কিছু নেতা একান্ত আলোচনায় বলছেন, মান্ধাতা আমালের ইস্যু তুলে শাসক দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছে দল। যেসব বিষয়কে সেখানে তোলা হয়েছে বিজেপি কর্মীদের কাছেই সেসব খুব প্রয়োজনীয় ইস্যু নয়। সবচেয়ে বড়ো কথা, উন্নয়ন নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই।তাহলে কেন ওইরকম একটি বিষয় নিয়ে কার্যত ‘খুঁচিয়ে ঘা’ করতে গেলেন পদ্মপার্টির নেতৃত্ব? সেখানেই উঠে আসছে আরেক গল্প। জানা গিয়েছে, বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব ২০২২ সাল থেকে চুঁচুড়া বিধানসভা নিয়ে সমীক্ষা করেছে। সেই সমীক্ষার তথ্য একত্র করেই তৈরি হয়েছে ওই চার্জশিট। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ওই তথ্য নিয়ে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলা হয়নি বলেও জানা গিয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক দাপুটে নেতা বলেন, মঙ্গলবার রাতেই ওই ‘বিখ্যাত’ চার্জশিট জেলায় এসে পৌঁছেছে। বুধবার হয়েছে তার আবরণ উন্মোচন। সেখানে কী লেখা হয়েছে জেলার কেউ জানতেন, এমন তথ্য নেই। কেন যে দলকে এভাবে হাসির খোরাক করা হচ্ছে, সেটাই বোঝা দায়। বিষয়টি কতখানি অস্বস্তির কারণ হয়েছে, তার একটি ইঙ্গিত মিলেছে বিজেপি জেলা সভাপতি (হুগলি সাংগঠনিক) গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের কথায়। গৌতমবাবু বলেন, রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে ওই চার্জশিট প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে বিধায়কের কার্যকলাপ নিয়ে জনতার অভাব-অভিযোগগুলি। নাগরিকদের ক্ষোভকেই আমরা প্রকাশ্যে এনেছি। আমরা আরো একটি চার্জশিট জেলাস্তর থেকে খুব দ্রুত প্রকাশ্যে আনব।তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলের চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, মনে হয়, বিজেপি নেতাদের রাজনৈতিক অনুশীলন হচ্ছে না। তাই একটা দলীয় মিলনমেলার আয়োজন করেছিলেন ওঁরা। ওখানে লেখা হয়েছে, আমি পুকুর ভরাটে মদত দিই। গোটা বিধানসভা কেন্দ্র জানে, গত পাঁচবছরে কিছু পুকুর ভরাটের চেষ্টা আমি রুখে দিয়েছি শতাধিকবার। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বিজেপির নীচুতলার সক্রিয় কর্মীরাই ওই চার্জশিটের অভিযোগগুলি দেখে হেসেছেন।বাস্তবে কী আছে ওই চার্জশিটে? কয়েকবছর আগে চুঁচড়া দাসপাড়ায় একটি ভ্যাটে মানুষের খুলি ও কঙ্কালের কিছু অংশ মিলেছিল। সেই প্রসঙ্গে বিধায়ককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে চুঁচুড়া হাসপাতালের ভিতরে বহুবছর আগে গুলি-কাণ্ড, গঙ্গাদূষণ, পুরসভার কর্মী বিক্ষোভের মতো বিষয়গুলিকেও সামনে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে পদ্মপার্টির অন্দরেই হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে এই তথাকথিত চার্জশিট।