নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: দিদি শেফালি ধরকে খুনের অভিযোগে ভাই প্রদীপ দাসকে বৃহস্পতিবার বারাকপুরের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ অয়নকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন তিনি, অনাদায়ে আরও ছ’মাস অতিরিক্ত কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণার আগে প্রদীপ নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। সরকারি আইনজীবী কানন মজুমদার জানিয়েছেন, সমস্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাকে দাষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, ছেলের পড়াশোনার জন্য শেফালি দেবীর স্বামী মধু ধর দু’লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই টাকা ঘরেই রাখা ছিল। প্রদীপ সেই টাকা চায় দিদির কাছে। কিন্তু শেফালিদেবী তা না দেওয়ায় তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই বারাকপুরের শিউলি দেবপুকুর এলাকায়।নিহত শেফালী ধরের স্বামী মধুবাবু টিটাগড় থানায় অভিযোগে জানিয়েছিলেন, ওইদিন সকালে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বেলা সওয়া ২টো নাগাদ ছেলে দেবজিৎ অনেকক্ষণ ধরে দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পর তার মামা প্রদীপ দরজা খোলে। সে ঘরে ঢুকে মায়ের খোঁজ করতে থাকে। পরে খাটের নীচে চাদরে মোড়া পা দেখতে পায়। মাকে টেনে বের করলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। শেফালিদেবীকে বারাকপুর বি এন বসু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর মধু ধরের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর শ্যালক প্রদীপকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় ভাগ্নে দেবজিৎ। সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, সেই সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে শেফালি ধর খুনের মামলায় বিচারক প্রদীপ দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।