নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এ যেন কাগজে-কলমে ‘খুন’ করে সম্পত্তি লুটের ছক! বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকা বৃদ্ধকে সরকারি নথিতে মৃত দেখিয়ে তাঁর জমি হাতানোর অভিযোগ উঠেছে আমডাঙার বোদাই পঞ্চায়েতের টেঙাটেঙি গ্রামে। অভিযোগ, ভুয়ো মৃত্যু শংসাপত্র তৈরির পর পঞ্চায়েত থেকে ওয়ারিশন সার্টিফিকেট পর্যন্ত বের করে নেওয়া হয়েছে। সেই সার্টিফিকেটে রয়েছে পঞ্চায়েত প্রধানের সই। ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে পঞ্চায়েতের প্রশাসন।জানা গিয়েছে, আমডাঙার বোদাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় থাকেন হামিজুদ্দিন তরফদার। তাঁর বয়স প্রায় ৭০ বছর। তিনি জীবিত ও দিব্যি সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁর ভাইপো সইদুল ইসলাম তরফদার কাকার ভুয়ো মৃত্যু শংসাপত্র তৈরি করে তাঁকে ‘মৃত’ হিসাবে দেখিয়েছেন। হামিজউদ্দিনের সন্তান আছে। কিন্তু তারপরেও ভাইপো নিজেকে ওয়ারিশন হিসাবে কীভাবে দেখাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই নথির ভিত্তিতে হামিজুদ্দিনের জমির ওয়ারিশন সার্টিফিকেট বের করে নেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত থেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি হাতানোর উদ্দেশ্যেই এই কারসাজি করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর হামিজুদ্দিন তরফদার আমডাঙা থানা ও বোদাই গ্রাম পঞ্চায়েতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।হামিজুদ্দিন তরফদার বলেন, আমি দেখতে পাই, শুনতে পাই, চলাফেরাও করতে পারি। অথচ আমাকেই ‘মৃত’ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভুয়ো নথি দিয়ে আমার জমির ওয়ারিশন সার্টিফিকেট বের করেছে ভাইপো। আমি এর বিচার চাই। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছেন বোদাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও আধিকারিকরা। পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সোমনাথ বেরা বলেন, কার সম্পত্তির কতজন ওয়ারিশ রয়েছে, তা জানা প্রধানের পক্ষে সম্ভব নয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সই করে ফাইল পাঠিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী প্রধান সই করেছেন। এটা সদস্যের ভুল। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশোধন করে দেওয়া হবে। প্রশ্ন উঠছে, একজন জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে কীভাবে সরকারি নথি তৈরি হল? মৃত্যুর শংসাপত্র যাচাই না করেই কীভাবে ওয়ারিশন সার্টিফিকেট দেওয়া হল? গোটা ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই অভিযুক্ত পলাতক। তার প্রতিক্রিয়া মেলেনি।