নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহর কলকাতায় এখন খোলা ভ্যাট খুব একটা দেখা যায় না। সর্বত্র তৈরি হয়েছে কম্প্যাক্টর স্টেশন। বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহের পর সেখানে নিয়ে আসা হচ্ছে। তারপর কম্প্যাক্টর গাড়িতে তা সরাসরি চলে যাচ্ছে ধাপায়। কিন্তু, এখন জঞ্জাল নিয়ে যাওয়ার এই কম্প্যাক্টর ও গড়িগুলির মেয়াদ ফুরিয়েছে। একাধিক গাড়ি খারাপও হয়েছে। তাই এবার শহরের জঞ্জাল ব্যবস্থাপনায় ২১৪টি কমপ্যাক্টর মেশিন ও গাড়ি কিনছে কলকাতা পুরসভা।২০১০ সালের পর থেকে কলকাতা শহরে আধুনিক ভ্যাট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বিভিন্ন কম্প্যাক্টর স্টেশন। কেনা হয় আধুনিক মেশিন-গাড়ি। রাস্তায় জঞ্জাল যাতে ডাঁই হয়ে পড়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক জঞ্জাল ব্যবস্থাপনার সূচনা হয়। পুরসভার জঞ্জাল সাফাই ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার সবসময় দাবি করেন, সারা দেশে এই পদক্ষেপ সর্বপ্রথম নিয়েছিল কলকাতাই। গত ১৫ বছরে সেই কম্প্যাক্টর স্টেশনের সংখ্যা বেড়েছে। কেনা হয়েছে আরও মেশিন-গাড়ি। কিন্তু, পুরনো পোর্টেবল কম্প্যাক্টর ও লোডার গাড়িগুলির মেয়াদ ফুরিয়েছে। তাই এবার শহরকে তিনটি ভাগে ভাগ করে প্রয়োজনমতো কম্প্যাক্টর মেশিন ও গাড়ি কেনার জন্য টেন্ডার শুরু করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, নতুন পোর্টেবল কমপ্যাক্টর কন্টেনার ১৪০টি ও ৭৪টি লোডার কেনা হবে। বরাদ্দ হয়েছে বিপুল অর্থ।সম্প্রতি, পুরসভার মাসিক অধিবেশনে কম্প্যাক্টর স্টেশনের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই দেবব্রতবাবু বড় সংখ্যায় আধুনিক কম্প্যাক্টর মেশিন কেনার কথা জানান। আগামী দিনে শহরে আরও কম্প্যাক্টর স্টেশন চালু করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের পোর্টেবল কম্প্যাক্টরের মেয়াদ খুব বেশি হলে সাত থেকে দশ বছর। কারণ, নিত্যদিনের বর্জ্যে নানা ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। বর্জ্যে থাকা নানা ধরনের কেমিকেলের জন্য মেশিনের যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়। সেখানে কলকাতা পুরসভায় এক-একটি পোর্টেবল কম্প্যাক্টর ১২-১৪ বছর ধরে চালানো হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অনেক যন্ত্রাংশ বদল করতেও হয়েছে। কিন্তু, আর বেশি দিন এগুলি চালানো যাবে না। উলটে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়বে। তাই এই নতুন মেশিন-গাড়ি কেনা জরুরি।