• বাম আমলে তৈরি হওয়া বন্ধ স্কুল খোলার আর্জি মায়েদের
    এই সময় | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, ইসলামপুর: এক সময় যে স্কুলে পড়াশোনা হতো, আজ সেখানে ফসল ও জ্বালানি মজুত করা হচ্ছে। ইসলামপুর ব্লকের গাইসাল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রামপুরে অবস্থিত রুহিয়া-রামপুর উর্দু মিডিয়াম জুনিয়র হাইস্কুল বন্ধ হয়ে পড়ে আছে প্রায় এক দশক ধরে। ফলে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় দশটি গ্রামের পড়ুয়ারা। বাম আমলে তৈরি এই স্কুলে শুরুতে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর চলে যাওয়ার পরে ২০১৬ থেকে স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

    রামপুর, মিলিক বসতি, গোগ বসতি, মরুয়া গাঁও-সহ অন্তত ১০টি গ্রামের বাচ্চাদের একমাত্র ভরসা ছিল এই স্কুল। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু পড়ুয়া পড়াশোনা মাঝপথেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা কোনওরকমে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরে কালানাগিন জুনিয়র হাইস্কুল অথবা ধানতলা হাইস্কুলে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এলাকার অভিভাবকরা। তাঁদের বক্তব্য, 'রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এর টাকা সংসার চালাতে কিছুটা সুরাহা হলেও এ দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়া যায় না।'

    স্থানীয় বাসিন্দা আখতারি বেগম বলেন, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা সংসারের কাজে লাগে। আমার পাঁচটা ছেলে-মেয়ে। বাড়ির পাশে স্কুল থাকলে ওদের ৩-৪ কিলোমিটার দূরে যেতে হতো না। ভাতার থেকেও আমাদের কাছে শিক্ষা অনেক বেশি জরুরি।' একই সুরে রুকসানা বেগম বলেন, 'বিয়ের পরে এই স্কুলটা কোনওদিন খোলা দেখিনি। লোকে এখানে ফসল আর জ্বালানি রাখে। শুনলাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়ানো হয়েছে। তাতে সংসার চালাতে কিছুটা সুবিধা হবে ঠিকই, কিন্তু আমার ছেলে বড় হলে যদি অশিক্ষিত থাকে, তখন কী হবে?'

    স্কুল চত্বরে বসে থাকা বছর দশেকের কিশোর নুমান আলি বলে, 'ছোটবেলায় মা আমাকে নিজের নাম লিখতে শিখিয়েছিল। তারপর মা মারা যায়। এই স্কুলটা খোলা থাকলে আমি এখানেই পড়তাম। অত দূরে গিয়ে পড়তে ভালো লাগে না।' স্থানীয় পঞ্চায়েত উপপ্রধানের স্বামী মহম্মদ এহেসান হাইদার বলেন, '২০১৬ সাল থেকে স্কুলটি বন্ধ। একাধিকবার ইসলামপুর ও গোয়ালপুকুরের বিধায়ক এবং মন্ত্রী গোলাম রব্বানিকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। স্কুলটি চালু হলে অন্তত দশটি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা উপকৃত হতো।' জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবাশিস সমাদ্দার বলেন, 'এক সময়ে আমরা ওই স্কুলটি অতিথি শিক্ষক দিয়ে চালাতাম। কিন্তু উনি চলে যাওয়ার পরে আর স্কুলটি চালু হয়নি। আমরা চেষ্টায় আছি। নতুন অতিথি শিক্ষক পেলেই স্কুলটি আবার চালু হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)