• বোসের ভাষণের সময় ছাঁটাই কেন! নয়া জল্পনা
    এই সময় | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্য বাজেট কতটা ভোটমুখী হবে এবং বিরোধীরা তার কী ব্যাখ্যা দেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছিল ক’দিন ধরেই। কিন্তু বৃহস্পতিবার বাজেট পেশের আগে বিধানসভায় বিতর্ক দানা বাঁধল রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ভাষণের সময়সীমা কাটছাঁট নিয়ে। ৪৫ মিনিটের ভাষণ সাড়ে চার মিনিটেই শেষ করে দিলেন তিনি!

    এ দিন বেলা সাড়ে ১২টার কিছু আগে বিধানসভায় ‍পৌছন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। অম্বেদকর মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরে অধিবেশনে শুরু হয় স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে। ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শোনা যায় তৃণমূলের বিধায়কদের। এই হট্টগোলের মাঝে বিধানসভায় বক্তৃতা শুরু করেন রাজ্যপাল।

    কিন্তু বক্তৃতা সম্পূর্ণ করেননি তিনি। মন্ত্রিসভার লিখে দেওয়া মোট আট পাতার ভাষণের শুরুর তিনটি পাতা পড়েই নিজের বক্তৃতা শেষ করেন বোস। তাঁর পড়া শেষ লাইন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান…’— ঠিক এখানেই থেমে যান তিনি। বলেন, ‘আমি আর পড়ব না।’ বক্তৃতা সেরে যাওয়ার সময়ে রাজ্যপালের উদ্দেশে ‘ওয়েল ডান’ বলে হাততালিও দিতে দেখা যায় বিজেপি বিধায়কদের। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বিধানসভায় বক্তৃতার সময়ে রাজ‍্যপাল পুরো ভাষণ পাঠ করেননি। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জায়গায় তিনি আটকে যান। কারণ, বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী লেখা পড়তে চাননি। তাই মাত্র সাড়ে চার মিনিটে তিনি বক্তৃতা শেষ করেন।’

    তবে সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে মমতার পাল্টা বক্তব্য, ‘উনি (রাজ্যপাল) স্পিকারকে জানিয়ে চলে গিয়েছেন। ওঁর ১টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইট আছে। রাজ্যপাল যেটা বলার বলে গিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁকে। যাদের বলার কিছু থাকে না, তারা এ সব কথা বলে। নেই কাজ তো খই ভাজ!’ পরে বিধানসভার বাইরে বিরোধী দলনেতা এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার সীমিত রাজনৈতিক জীবনে এই ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। তামিলনাড়ুতে আগে হয়েছে। তারপর এখানে হলো। এটা কার্যত সরকারের লিখে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা।’ তবে যে ‘ঘাটল মাস্টার প্ল্যান’–এ এসে রাজ্যপাল থমকেছেন, সেই প্ল্যান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১৫ বছর অপেক্ষা করেছিলাম। ওরা টাকা দেয়‍নি। রাজ্য সরকার নিজেদের টাকায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করছে। তিনশো কোটি টাকার কাজ হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)