পরিবেশ রক্ষা ও বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিল খড়গপুর আইআইটি। বর্জ্য পদার্থকে শক্তি সম্পদে রূপান্তর করতে ক্যাম্পাসে স্থাপন হতে চলেছে অত্যাধুনিক কমপ্রেসড বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করেছে আইআইটি খড়গপুর। সম্প্রতি গোয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।
খড়গপুর আইআইটির পক্ষ থেকে ক্যাম্পাস ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ডিন অধ্যাপক ব্রজেশ দুবে এবং অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের পক্ষ থেকে কার্যনির্বাহী আধিকারিক (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) রঞ্জন গোস্বামী চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
জানা গিয়েছে, আইআইটি চত্বরে নির্দিষ্ট জমিতে এই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের জন্য একটি মডেল হিসেবে দেখছেন আইআইটির অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, গত বছর ১৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা দিবসে অয়েল ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তনী ডঃ রঞ্জিত রথের সঙ্গে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই বৈঠকেরই ফলশ্রুতি এই সমঝোতা।
অধ্যাপক চক্রবর্তীর কথায়, ‘শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের এই যৌথ উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ ও শক্তি উৎপাদনে নতুন দিশা দেখাবে। আগামী দিনে দেশের অন্যান্য শহর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষেও এটি অনুসরণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।’
তবে এই প্রকল্পে শুধু আইআইটি ক্যাম্পাসের বর্জ্যই ব্যবহার করা হবে না। পর্যাপ্ত কাঁচামাল জোগাড় করতে খড়গপুর পুরসভা, রেল ও শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকেও জৈব বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে।
এজন্য একটি আলাদা টিম গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইআইটি কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই প্রকল্প পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।
পুরসভা ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কাজও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট শুধু শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষামূলক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
আইআইটির পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা এখানে এসে জানতে পারবেন কীভাবে জৈব বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করে বায়োগ্যাস তৈরি করা হয়। উৎপাদিত গ্যাস রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
পাশাপাশি উৎপন্ন জৈব সার কৃষিক্ষেত্রে কাজে লাগানো যাবে। এর ফলে শহরে আবর্জনা জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেই সঙ্গে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।