আজকাল ওয়েবডেস্ক: রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য আবারও বন্ধ থাকতে চলেছে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে যান চলাচল। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বিদ্যাসাগর সেতুতে৷ রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে লালবাজারের তরফে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে রবিবার সন্ধে ৬টার পর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে সেতু৷
লালবাজারের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্যই বন্ধ থাকবে বিদ্যাসাগর সেতু৷ ওই সময়ে বেয়ারিং–সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলবে বিদ্যাসাগর সেতুতে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেতুতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সেতু বন্ধ থাকার সময় বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে যানবাহনগুলি৷
এটা ঘটনা, হাওড়া এবং কলকাতাকে সংযোগ করে বিদ্যাসাগর সেতু৷ বিভিন্ন রুটের যানবাহনের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু৷ কিন্তু বিগত বেশ কয়েকমাস ধরেই বিদ্যাসাগর সেতুতে চলছে মেরামতের কাজ৷ সেতু বন্ধ থাকলে বহু নিত্যযাত্রীকেই সমস্যায় পড়তে হবে, তা মাথায় রেখেই ছুটির দিন অর্থাৎ রবিবারে করা হয় মেরামতের কাজ৷ গত জানুয়ারি মাসেও ১৬ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল বিদ্যাসাগর সেতু৷ ফের বন্ধ থাকতে চলেছে আগামী রবিবার, এবার ১২ ঘণ্টার জন্য।
এই সময়ে বিদ্যাসাগর সেতুমুখী গাড়িগুলিকে বিকল্প পথে চালানো হবে। জানানো হয়েছে, জিরাট আইল্যান্ড থেকে এজেসি বোস রোড ধরে আসা গাড়িগুলিকে টার্ফ ভিউ দিয়ে হেস্টিংস ক্রসিংয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। সেগুলি হাওড়া ব্রিজ ধরে বেরিয়ে যেতে পারবে। জেএন আইল্যান্ডের দিক থেকে কেপি রোড হয়ে যে সমস্ত গাড়ি আসবে, সেগুলিকে ১১ ফারলং গেট দিয়ে হেস্টিংস ক্রসিংয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সিজিআর রোড ধরে খিদিরপুরের দিক থেকে আসা বিদ্যাসাগর সেতু অভিমুখী সমস্ত গাড়িগুলিকে হেস্টিংস ক্রসিংয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকে বাম দিকে টার্ন নিয়ে গাড়িগুলি হাওড়া ব্রিজ ধরে বেরিয়ে যেতে পারবে। কেপি রোড ধরে সেতুর দিকে আসা গাড়িগুলি ওয়াই পয়েন্টের কাছে ঘোড়া পাসের দিকে যেতে পারবে। এই ১২ ঘণ্টা সমস্ত গাড়িগুলিকে হাওড়া ব্রিজ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় হুগলি সেতু হুগলি রিভার ব্রিজেস কমিশনার্স (এইচআরবিসি)–এর অধীনে রক্ষণাবেক্ষণ হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই স্বশাসিত সংস্থা ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, মূলত হুগলি নদীর উপর সেতু নির্মাণ ও তার রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশে। বর্তমানে এইচআরবিসি সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের দায়িত্ব পালন করছে।