জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আরজি করে দুর্নীতি নিয়ে যিনি প্রথম মুখ খুলেছিলেন, সেই আখতার আলির বিরুদ্ধেই এবার জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোনায় জারি করল আদালত। সিবিআইকে দ্রুত তা কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন বিচারক। আদালতের পর্যবেক্ষণ, 'ইচ্ছাকৃতভাবে সমন অগ্রাহ্য করেছেন আখতার আলি। তাঁর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে যে নথি পেশ করা হয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়'।
সরষের মধ্যেই ভূত! অভিযোগকারী আখতার আলিই এখন আরজি কর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত। আর্থিক দুর্নীতি নাকি তিনিও জড়িত! আদালতে তেমনই অভিযোগ করেছে সিবিআই। বস্তুত, এই মামলায় শেষ চার্জশিটটি জমা পড়েছে, তাতে আখতারের নামও ছিল।
এদিকে জামিন জারি হওয়া সত্ত্বেও একাধিবার সিবিআই আদালতে সশরীরের হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছে আখতার। উলটে আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। সম্প্রতি সেই আবেদনও খারিজ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এদিন সিবিআই আদালতে আখতারের আইনজীবী জানান, সমন ই্স্য়ু করা হয়েছে। তাঁর মক্কেল আসতে পারবেন না। তিনি হাসপাতালে ভর্তি। চিকিত্সকরা সাতদিন বিশ্রাম নিতে বলেছেন।
বিচারক জানতে চান, 'কী হয়েছে যে নার্সিংহোমে ভর্তি হতে হল'? আখতারের আইনজীবী জানান, 'স্পাইনাল কর্ডে সমস্যা। সাত রেস্ট বলেছে'। বিচারক বলেন, বেড রেস্ট নার্সিংহোমে? আপনার ক্ষমতা আছে বলে নার্সিংহোম চলে গেলেন! নার্সিংহোম কেন বিপদে ফেলেছেন'? সিবিআইয়ে আইনজীবী বলেন, 'হাইকোর্ট আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছে। ইচ্ছাকৃত হাজিরা দেননি'। আখতার আলির বিরুদ্ধে মামলা দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ তোলেন সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীও। বলেন, 'আমরা তাঁকে(আখতার আলি) হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি'। একই দাবি জানান সিবিআইয়ের আইনজীবীও।
বিচারক বলেন, 'এটা উল্লেখ করার অত্যন্ত প্রয়োজন যে এই অভিযুক্ত সমন ইস্যু হওয়া ১৬/১২/২০২৫) হওয়ার পর জামিনের আবেদন করেন হাইকোর্টে। তিনি ৫ বার মামলা মুলতুবি চেয়েছেন এই কোর্টে । হাইকোর্ট ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে। সেই সঙ্গে এই পর্যবেক্ষণ দেয় যে কেস ডায়েরিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে যার জন্য তাঁকে জামিন দেওয়ার সম্ভব নয়। কলকাতা হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ ও মেডিকেব রিপোর্ট দেখে আদালত একেবারেই সন্তুষ্ট নয় যে, অসুস্থতার কারণে আদালতে আসতে পারবেন না। কারণ, যে মেডিকেল রিপোর্টগুলি দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতে তাঁর এই অনুপস্থিতি ইচ্ছাকৃত। আমি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছি'।
সূত্রের খবর, আখতার আলি এখন হাওড়ায় একটি নাার্সিংহোমে ভর্তি। তিনি অসুস্থ। সেকারণেই আদালতে হাজিরা এড়িয়ে দিয়েছে। আখতার জানিয়েছেন, 'সুস্থ হলে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন'। তাঁর দাবি, ঘুষ নেওয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা নেননি। দাদার চিকিত্সার জন্য ধার হিসেবে একজনের কাছ থেকে চেকে টাকা নিয়েছিলেন'।