রাজগীরের জৈন ধর্মশালার একটি ঘর থেকে উদ্ধার হলো চার পর্যটকের দেহ। মৃতদের মধ্যে দু'জন মহিলা। শুক্রবার, ওই ঘরের তালা ভেঙে দেহগুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই ধর্মশালার রেজিস্টার অনুযায়ী, চার জনেই গত ৩১ জানুয়ারি সেখানে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জন নিজেকে বেঙ্গালুরু বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আধার কার্ড জমা দিয়েছিলেন। বাকিরা দেননি। কী কারণে চার জন এক সঙ্গে মারা গিয়েছেন তার কারণও এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। এই মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে বিহারের নালন্দা জেলার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার, রাজগীরের দিগম্বর জৈন ধর্মশালার একটি রুমের ভিতর থেকে ওই চার পর্যটকের দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘরটি ভিতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। ওই দুর্গন্ধ পাওয়ার পরেই পুলিশে বিষয়টি জানিয়েছিলেন ধর্মশালার ম্যানেজার মুকেশ জৈন। খবর পেয়ে ধর্মশালায় পৌঁছয় পুলিশ এবং তারা দরজা ভেঙে চার জনের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়।
ওই ধর্মশালার ম্যানেজার জানিয়েছেন, গত ৩১ জানুয়ারি সেখানে এই এসেছিলেন ওই চার জন। তাঁরা নেপাল ভ্রমণের পরে রাজগীরে এসেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। সেখান থেকে পাওয়াপুরী যাওয়ার কথা ছিল চার জনের। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন যে তাঁদের মধ্যে এক জন আধার কার্ড জমা দিয়েছিলেন। অন্যরা কেউই তাঁদের পরিচয়পত্র জমা দেননি।
পুলিশ সূত্রে খরব, অন্তত দু'দিন আগে ওই চার জনকে স্থানীয় বাজারে ঘুরতে দেখেছিলেন স্থানীয়রা। ওই ঘর থেকে তাঁদের মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। ফোন নম্বর বেঙ্গালুরুর বলেও প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।
অন্তত দু'দিন আগেই পর্যটকদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন রাজগীর এলাকার পুলিশ আধিকারিক সুনীল কুমার সিং। কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয় তা জানার জন্য ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ফরেন্সিক পরীক্ষা করেও দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই মৃত্যু আত্মহত্যা না কি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজগীরের ডেপুটি পুলিশ সুপার।
সূত্রের খবর, ওই চার জনের মোবাইল কল ডিটেলসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জেনেছে, ওই ভ্রমণ করার সময়েই তাঁদের নিজেদের মধ্যে পরিচয় হয়েছিল।