• মা হতে বাধ্য করা যায় না কাউকে! সুপ্রিম রায়ে স্বস্তি ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বার
    এই সময় | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়। প্রজননের বিষয়ে মহিলাদের স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিল সুপ্রিম কোর্ট। গর্ভাবতী হওয়ার পরে ৩০ সপ্তাহ কেটে গেলেও, এক ১৮ বছর বয়সি তরুণীকে শেষ পর্যন্ত গর্ভপাতের অনুমতি দিল শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বি ভি নাগারত্না সাফ জানিয়ে দেন, ‘কোনও মহিলাকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভাবস্থা বজায় রাখতে বাধ্য করা যায় না।’

    এর আগে বম্বে হাইকোর্ট অবশ্য এই তরুণীর গর্ভপাতের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, গর্ভাবস্থার এত অ্যাডভান্সড স্টেজে গর্ভপাত করা আদতে ‘ভ্রূণহত্যা’র শামিল। সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে তাকে দত্তক দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

    সেই রায়ই এ দিন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, প্রজননের বিষয়ে একজন মহিলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বা ‘রিপ্রোডাক্টিভ অটোনমি’, গর্ভস্থ ভ্রূণের অধিকারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর যখন ১৭ বছর বযস ছিল, সেই সময়েই তিনি তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ১৮ বছর ৪ মাস। তাঁর আইনজীবী শীর্ষ আদালতে যুক্তি দেন, তরুণীর জন্য এই গর্ভাবস্থা শারীরিক ও মানসিক ভাবে যন্ত্রণাদায়ক। এতে তার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে।

    ভারতের আইন অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত করানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোনও গর্ভবতী মহিলা। ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে থাকলে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ নিতে হয়। ভ্রূণ নষ্ট করলে মায়ের স্বাস্থ্যের কোনও ক্ষতি হবে না, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হয়। ২৪ সপ্তাহ পরে, একমাত্র আদালতই গর্ভপাতের অনুমতি দিতে পারে।

    এই ক্ষেত্রেও মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে আদালত নিশ্চিত হয়েছে, গর্ভপাত করালে তরুণীর প্রাণের কোনও ঝুঁকি নেই। তার পরেই এই রায় দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ঐতিহাসিক। কারণ, এই রায় ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় মহিলাদের তাঁদের শরীরের উপরে নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক বড় জয়।

  • Link to this news (এই সময়)