• মমতা ব্যানার্জিকেও তৃণমূল নেতারা 'মা' বলেন, শুভেন্দু
    আজকাল | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন নিজেকে বলেছিলেন 'মোদির সন্তান'? শুক্রবার ব্যাখ্যা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সল্টলেকের বিজেপি অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা বলেন, "আমি আমার রাজনৈতিক আদর্শবোধ থেকে নরেন্দ্র মোদিকে বলেছি আমার গুরু। আমি তাঁর সৈনিক। তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেও অনেকে মমতা ব্যানার্জিকে মা বলেন। একজন প্রবীণাকে মা বা দিদি বলাটা কোনও অন্যায় নয়।" 

    প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ'র মধ্যে 'বাবা' ও 'সন্তান' শব্দ প্রসঙ্গে প্রবল তর্কাতর্কি হয়। শেষপর্যন্ত স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে হস্তক্ষেপ করতে হয়। 

    এদিন রাজ্য বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন ভাতার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, আমরা সমকাজে সম বেতনের দাবি তুলেছি। তাঁর কথায়, বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন ভাতার বিষয়গুলি হল 'প্রতিশ্রুতি'। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ২০১১ সালে ৫১টি কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্র ছিল। যেখানে নথিভুক্ত কর্মহীনদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি। কিন্তু ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো তুলে দিয়ে শ্রম দপ্তরের সঙ্গে মিলিয়ে দেন। যাতে করে তুলনাটা না আসে। পাশাপাশি শুভেন্দু এদিন দাবি করেন, সম্মানীয় কোনও বাঙালির অপমান তিনি বা তাঁর দল মেনে নেবেন না।

    এদিনের বৈঠকে আনন্দপুর এলাকার নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলনেতা জানান, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই তাঁর জেলার বাসিন্দা। বিষয়টি নিয়ে যে তিনি এতটুকুও ছাড়বেন না সেকথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু। 

    প্রসঙ্গত, আনন্দপুরের নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড মামলায় গ্রেপ্তার করা হল ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী গঙ্গাধর দাস (৫৯)। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার অন্তর্গত পূর্বচড়া গ্রামে। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেকোরেটার্সের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। 

    বিদেশ থেকে প্লাস্টিক ফুল আমদানি করে সেই ফুল দিয়ে অনুষ্ঠান বাড়ি, সভা, সমিতির মঞ্চ সহ বিভিন্ন জায়গা সাজানোর কাজ করতেন গঙ্গাধর দাস। প্রথমদিকে জেলার মধ্যেই ছোটখাটো ডেকোরেশনের বরাত পেতেন তিনি। ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়। 

    প্রায় ১৩ বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার অদূরে খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা ও গোডাউন চালু করেন গঙ্গাধর দাস। সেই গোডাউনেই রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উধাও হয়ে যান গঙ্গাধর দাস। তাঁর মোবাইল ফোনও দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। 

    মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের সুপার শুভেন্দ্র কুমার। তিনি জানান, গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। 

    উল্লেখ্য, আনন্দপুরে জোড়া গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার আরও পাঁচ জনের দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

    আজ ময়নাতদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে নিখোঁজ এখনও ১৫ জন। উদ্ধারকাজ চালু রয়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা এখনও হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলের আশপাশে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)