প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বাজেট পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যাঁদের নিজের কোনও জমি নেই এবং অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, সেই খেতমজুরদের জন্য বছরে চার হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রবি ও খরিফ— এই দুই মরশুমে দু’হাজার টাকা করে তাঁদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবির কথা মাথায় রেখে সেচের চার্জ মকুবের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘোষণায় খুশি রাজ্যের চাষিরা। তাঁর কথায়, সেচের খরচ কমলে চাষিদের অনেকটাই উপকার হবে। তবে শুধু ঘোষণা করলেই হবে না, সরকারি ডিপ টিউবওয়েলের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবেই বেশিরভাগ চাষি এর সুবিধা পাবেন।
কালনার রানিবন্ধ এলাকার এক চাষি বলেন, এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হওয়া খুব দরকার। এখন চাষের মোট খরচের বড় অংশই চলে যায় সেচের জল কিনতে। অনেক জায়গায় সমবায়ের ডিপ টিউবওয়েল দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে রয়েছে। সেগুলো চালু না হলে সেচ মকুবের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে, খেতমজুরদের মধ্যেও রয়েছে প্রত্যাশার পাশাপাশি উদ্বেগ। কালনার কোয়ালডাঙার কয়েকজন খেতমজুরের বক্তব্য, অনুদান কারাপাবেন এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, সেই পদ্ধতি যেন সহজ ও স্বচ্ছ হয়। প্রকৃত খেতমজুররা যাতে বাদ না পড়েন, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি।
সার্বিকভাবে রাজ্যের কৃষক ও খেতমজুরদের বড় অংশই মনে করছেন, বাজেটের এই ঘোষণা বাস্তবে ঠিকভাবে কার্যকর হলে চাষের চাপ অনেকটাই কমবে। তবে অনুদান বাছাইয়ের মানদণ্ড, সেচ পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং দ্রুত রূপায়ণ— এই তিনটি বিষয়েই এখন নজর রাখছেন তাঁরা।