মোদি জমানায় বেহাল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, ৫ বছরে বন্ধ ১৮ হাজারেরও বেশি সরকারি স্কুল
বর্তমান | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: মোদি সরকারের আমলে বেহাল হচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছে সরকারি স্কুল। বন্ধ হচ্ছে একের পর এক বিদ্যালয়। উলটো দিকে বাড়ছে বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা। মোদি সরকারের তথ্যেই উঠে এসেছে এমন বেহাল চিত্র। রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, বিগত পাঁচবছরে দেশে ১৮ হাজার ৭২৭টি সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, মাত্র ১ বছরে বেসরকারি স্কুল খুলেছে ৮ হাজার ৪৭৫টি।রাজ্যসভায় সাংসদ জন ব্রিট্টাস এই বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। রাজ্যওয়ারি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা, পাঁচ বছরে কত সরকারি স্কুল বন্ধ হয়েছে, বন্ধের সময় কত পড়ুয়া ছিল, কত সংখ্যক স্কুলে কোনও পড়ুয়াই ছিল না, একই সময়ে কত বেসরকারি স্কুল খুলেছে—এমনই বেশ কিছু প্রশ্ন করেছিলেন তিনি। জবাবে শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী সরকারি স্কুলের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। যদিও এই পরিস্থিতির জন্য তিনি ঘুরিয়ে রাজ্য সরকারের উপরেই দায় চাপিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাফাই, সংবিধানের যৌথ তালিকায় রয়েছে শিক্ষা। তাই স্কুল খোলা বা বন্ধ—সবটাই রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের উপর নির্ভর করে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে দেশে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ ৩২ হাজার ১৯টি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ৩২২টিতে। অর্থাৎ পাঁচবছরে প্রায় ১৮ হাজার ৭০০টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি স্কুল বন্ধের তালিকায় শীর্ষ থাকা প্রথম পাঁচটি রাজ্যই বিজেপি শাসিত। নাম রয়েছে মধ্যপ্রদেশ (৬ হাজার ৯০০টি, সবচেয়ে বেশি), অসম (২ হাজারের বেশি), ওড়িশা (১ হাজার ৬০০টি), উত্তরাখণ্ড (৬০০টি)। উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হরিয়ানা ও গুজরাতেও। কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবছরই নিয়ম করে স্কুলশিক্ষায় বরাদ্দ বেড়েছে। তা সত্ত্বেও কেন বন্ধ হচ্ছে সরকারি স্কুল? কংগ্রেস সাংসদ মানিকম ঠাকুরের ব্যাখ্যা, এটাই বিজেপির মডেল। সরকারি স্কুলে সাধারণ ছাত্রছাত্রী পড়ে শিক্ষিত হবে। তাতে আরএসএসের পরিকল্পনা সফল হবে না। গোটা পাঠ্যসূচিতে ও ক্লাসরুমের উপর আরএসএস পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায়। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই এভাবে এক এক করে সরকারি স্কুলকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যা সরাসরি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সংবিধানের পরিপন্থী। তাঁর মতে, সরকারি স্কুল বন্ধ হলে বেসরকারি স্কুলের দাপাদাপি বাড়বে। তাতে অভিভাবকরা বাড়তি ফি দিতে বাধ্য হবেন। গরিব, গ্রামীণ ও প্রান্তিক শিশুরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।