• সময়ে হয়নি কাজ, কয়েকশো কোটি টাকার বাড়তি সুদ দিতে হচ্ছে রেলকে
    বর্তমান | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ হয়নি কাজ। ফলে সুদ হিসাবে বাড়তি প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা গুণতে হয়েছে রেলকে। আবার অন্য এক প্রকল্পে কম মূল্যের বরাত বাতিল করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচে ওই প্রজেক্টের বাকি অংশের বাস্তবায়ন হয়েছে। রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্নে রেলের জবাবে এমনই হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এমনকি তৃণমূলের প্রশ্নে রেলমন্ত্রক এও জানিয়েছে যে, এবিষয়ে সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এর অর্থ হল, গরমিল সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রেলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাজ্যসভায় লিখিত প্রশ্ন করেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাকেত গোখলে। তারই লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ওই দু’টি বিষয়ের সবিস্তার তথ্য পেশ করেছেন। রেলমন্ত্রকের লিখিত জবাবে বলা হয়েছে যে, মুম্বইয়ের বান্দ্রা ইস্টে রেলের একটি জমির বাণিজ্যিকীকরণের উদ্দেশ্যে রেল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (আরএলডিএ) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে রেলের যাত্রী ভাড়া না বাড়িয়ে বিকল্প পথে আয় বৃদ্ধির পথ সুগম হত। কিন্তু সেভাবে সাড়া মেলেনি। ফলে ওই জমির বাণিজ্যিকীকরণের দায়িত্ব কোনও ডেভেলপারকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। রেল জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড বা ইরকন ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ফিনান্স কর্পোরেশনের (আইআরএফসি) সঙ্গে এব্যাপারে চুক্তি করবে আরএলডিএ। সেইমতো অর্থের সংস্থান করা হবে। কিন্তু দেশব্যাপী করোনা মহামারী এবং অন্যান্য কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ায় এসংক্রান্ত কাজ সময়ে শেষ করা যায়নি। এর ফলে চুক্তির শর্ত মেনে আইআরএফসিকে প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা সুদ বাবদ মেটাতে হয় রেল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে।উঠে এসেছে রেলের সবথেকে আলোচিত উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেল লাইন (ইউএসবিআরএল) প্রকল্পের উল্লেখ। সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এই প্রকল্পেই! রেলমন্ত্রী রাজ্যসভায় জানিয়েছেন যে, প্রকল্পের দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইরকন ইন্টারন্যাশনালের উপর। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকল্পের আওতাভুক্ত একটি টানেল তৈরির জন্য ইরকন ৮৮৩ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার বরাত দেয় একটি সংস্থাকে। কিন্তু ধীরগতিতে কাজ হচ্ছিল। ফলে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ওই বরাত বাতিল করা হয়। বকেয়া কাজ সম্পন্ন করতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ১ হাজার ১১০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার বরাত দেওয়া হয় অন্য একটি সংস্থাকে। রেলমন্ত্রী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে যখন বরাত বাতিল করা হয়, সেইসময়ের নিরিখে বকেয়া কাজ সম্পন্ন করতে খরচ হত ৬৭৬ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পাঁচ বছর পর স্বাভাবিক নিয়মেই বাজারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। সেইমতো বেড়েছে বরাতমূল্যও। লিখিত জবাব থেকে দেখা যাচ্ছে যে, এই বর্ধিত বরাতমূল্যের পরিমাণ প্রায় ৪৩৪ কোটি টাকা!
  • Link to this news (বর্তমান)