নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সাধারণ মানুষের কপালে কিছু নাই জুটতে পারে। কিন্তু সদ্য ঘোষিত বাজেটে অর্থনীতির উজ্জ্বল ছবি এঁকেছে মোদি সরকার। শুধু তাই নয়। দাবি করেছে, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছে। সেটাই আম আদমির পক্ষে সুখবর। মাঝে মাত্র চারদিন। কেন্দ্রের এই নয়া ‘বিকাশ ব্যাখ্যা’র সম্পূর্ণ উলটো অবস্থান নিয়ে রিজার্ভ ব্যাংক বুঝিয়ে দিল, পরিস্থিতি মোটেই স্বপ্ন ফেরি করার মতো নয়। রেপো রেট একই থাকল। এবং নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকের পর সতর্ক অবস্থান নিয়ে দেশের শীর্ষ ব্যাংক জানিয়ে দিল, মূল্যবৃদ্ধির হার আবার বৃদ্ধির পথে। আর এই পূর্বাভাস স্বয়ং আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার। তিনি জানালেন, উনিশ-বিশ নয়। আগামী অর্থবর্ষের শুরুতেই মূল্যবৃদ্ধির হার এখনকার তুলনায় দ্বিগুণ হবে।ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে পণ্যের দাম। নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকের রিপোর্ট বলছে, চলতি আর্থিক বছরের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির হার হতে পারে ২.১ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ২.৬ শতাংশ। কিন্তু আতঙ্কের সূচনা এরপর। কারণ, চতুর্থ ত্রৈমাসিকে এই হার পৌঁছাতে পারে ৩.২ শতাংশে। আর নতুন অর্থবর্ষে? প্রথম ত্রৈমাসিকে মূল্যবৃদ্ধির হার ছোঁবে ৪ শতাংশ এবং তারপর ৪.২ শতাংশ। মাস ছয়েক ধরে খাতায় কলমে কমেছে মূল্যবৃদ্ধির হার। কিন্তু খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। সেই সময়ই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার যে নিয়মে এতদিন ধরে নির্ধারিত হয়, সেটা বদলে দেওয়া হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালকে ধরা হবে ভিত্তিবর্ষ। অর্থাৎ ওই বছরে যা মূল্যবৃদ্ধি ছিল, তার নিরিখে স্থির হবে মূল্যবৃদ্ধি। এখানেই শেষ নয়। সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় খাদ্য-মূল্যের অংশের প্রভাবকে কমিয়ে দেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবে তাহলেই মূল্যবৃদ্ধির হারও কম দেখানো যাবে। তারপরও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়তে চলেছে কেন?রিজার্ভ ব্যাংক বলছে, প্রধান কারণ মূল্যবান ধাতুর দাম আশাতীত বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ সোনা ও রুপো। আর সেই কারণেই সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির হারও বাড়বে। একইসঙ্গে আরও দু’টি আশঙ্কার কারণ রয়েছে। প্রথমত, আগামী কয়েকমাসে যদি খাদ্যের জোগান যথাযথ না হয়। এবং দ্বিতীয়ত, বৈশাখ মাস থেকে যখন বোরো চাষের ফসল উঠবে, তখন যদি প্রত্যাশিত উৎপাদন না পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বেই। এছাড়া রয়েছে খরিফ শস্য। জানুয়ারি থেকে ধানের বস্তার দাম বাড়ছে। ট্রাম্প-শুল্কে রপ্তানি বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েনি বলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও মোদি সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রক যতই দাবি করুক না কেন, রিজার্ভ ব্যাংক কিন্তু সেকথা বলেনি। বরং গভর্নর তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমদানির হার এখনও রপ্তানির তুলনায় বেশি। আমদানি ও রপ্তানির ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল।’ অর্থাৎ, সরকার যতই জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে হাঁকডাক করুক, রিজার্ভ ব্যাংক সতর্ক। শিল্পমহল আশায় ছিল, রেপো রেট আরও কমবে। কিন্তু এহেন পরিস্থিতিতে তা রেখে দেওয়া হয়েছে ৫.২৫ শতাংশেই। অতএব আপাতত নতুন করে বাড়ি-গাড়ির উপর ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমছে না। কমছে না ইএমআইও।