নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চার ঘণ্টায় ১২বার কাঁপল সিকিম! কম্পন অনুভূত হয়েছে দার্জিলিং-কালিম্পং পাহাড় সহ শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতেও। বৃহস্পতিবার রাত ১টা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঘন ঘন ভূমিকম্পের জেরে আতঙ্ক ছড়ায় সিকিম ও উত্তরবঙ্গের পাহাড় এবং তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে। স্থানীয়দের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পর্যটকরা। যদিও ভূমিকম্পের তীব্রতা খুব বেশি না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিকিমের গ্যালসিং, নামচি, মঙ্গনে। বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৯মিনিটে প্রথম পশ্চিম সিকিমের গ্যালসিংয়ে যে ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৪.৫। এরপর থেকে এদিন ভোর ৫টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত এগারোবার যে কম্পন হয়েছে, রিখটার স্কেলে কোনোটির মাত্রা ছিল ৪.০, কোনোটির ৩.৫ বা ২.৯। সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র চার ঘণ্টায় ১২বার ভূমিকম্পের রেকর্ড নেই সিকিম কিংবা উত্তরবঙ্গে। ফলে কেন এমনটা হল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এতবার কম্পন কি বড় কোনও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস, সেই আশঙ্কায় উদ্বেগে সিকিমের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা।সিকিমের আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৯মিনিট থেকে শুক্রবার ভোর ৫টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত ১২বার ভূমিকম্প রেকর্ড রয়েছে। গ্যালসিংয়ে প্রথম যে ভূমিকম্প হয়, বাকিগুলি তার আফটার শক বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা এর প্রকৃত কারণ বলতে পারবেন। বেশি তীব্রতার ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সাধারণত বেশ কয়েকবার আফটার শক হয়ে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রথম ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৪.৫। যা খুব বেশি নয়। তারপরও চার ঘণ্টায় ১১বার কম্পন হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে সিকিমে এমনটা হয়নি।উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান সুবীর সরকার বলেন, সিকিমের যে অঞ্চলে চার ঘণ্টায় ১২বার কম্পনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি ভূমিকম্পপ্রবণ। অতীতে এই অঞ্চলে বেশি তীব্রতার কম্পন হয়েছে। এক্ষেত্রে রিখটার স্কেলের তীব্রতা দেখে মনে হচ্ছে, প্রথম যে ভূমিকম্প হয়, বাকিগুলি তার আফটার শক। কিন্তু ৪.৫ তীব্রতার ভূমিকম্পে চার ঘণ্টায় ১১বার আফটার শক সাম্প্রতিক সময়ে সিকিমে হয়নি। গ্যালসিংয়ে প্রথম ভূমিকম্পের ৬ মিনিটের মধ্যে কেঁপে ওঠে গ্যাংটক। শেষ কম্পন সকাল ৫টা ২৯ মিনিটে।