• ‘নাম-বিভ্রাটে’ একজনের আবাসের টাকা ঢুকল অন্যজনের অ্যাকাউন্টে! পতিরামে বঞ্চনার অভিযোগে সরব বিজেপি
    বর্তমান | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বালুরঘাট: একজনের মোবাইল ফোনে মেসেজ এলেও আবাসের প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকল আরেকজনের অ্যাকাউন্টে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে পতিরামে। একজন উত্তম কুমার সরকার। বিজেপির একটি বুথের সেক্রেটারি। একই গ্রামের আরেকজনের নাম উত্তম সরকার। দু’জনের বাড়ি পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের হাড়পুর সংসদে। দুজনই বাংলার বাড়ির জন্য আবেদন করেছিলেন। একজনের মোবাইলে ঘরের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার মেসেজ এলেও বাস্তবে সেই টাকা ঢুকেছে আরেকজনের অ্যাকাউন্টে। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ উত্তম কুমার সরকার। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে উত্তম কুমার সরকার ঘরের টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। চক্রান্ত করে সেই টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে। যাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, তাঁর ছাদ দেওয়া পাকা বাড়ি রয়েছে। এবিষয়ে বালুরঘাটের বিডিও শোভন চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি কর্মী উত্তম কুমার সরকার। বিডিও বলেছেন, যাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, তিনিই আসলে ওই টাকার অধিকারী। তাঁর নাম আগে থেকেই পোর্টালে ছিল। অভিযোগকারীও ঘরের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে তাঁর নামে টাকা আসেনি। ভুলবশত তাঁর মোবাইল নম্বর ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সার্ভের সময় নাম বিভ্রাট হয়েছিল। ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।  অভিযোগকারী উত্তমের বক্তব্য, আমার পাকা বাড়ি নেই। টিনের বাড়িতে কোনও রকমে থাকি। আমাকে পঞ্চায়েত থেকে ডেকে ঘরের জন্য সার্টিফিকেট দিয়েছে। এমনকী মোবাইলেও মেসেজ এসেছে। কিন্তু অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখি, টাকা ঢোকেনি। মোবাইলে যে মেসেজ এসেছে সেখানে অন্য অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া। উত্তমের অভিযোগ, বিজেপি করি বলেই আমাকে ঘরের টাকা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।এবিষয়ে পতিরাম ও নাজিরপুর মণ্ডল সভাপতি ছোটন চক্রবর্তী বলেন, যোগ্য ব্যক্তি ঘরের টাকা পায় না। অথচ যার পাকা বাড়ি রয়েছে, সে টাকা পাচ্ছে। একজনের টাকা অন্য জনের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে। পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং কর্মীরা মিলে এই চক্রান্ত করছে। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শীঘ্রই আমরা আন্দোলনে নামব। পাল্টা পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান পার্থ ঘোষ বলেন, নাম-বিভ্রাটের কারণে এই গোলমাল হয়েছে। আমরা রং দেখে ঘর দিই না। আগেও বিজেপির অনেকেই ঘর পেয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন তদন্ত করে দেখছে। টাকা পাওয়া উত্তম সরকার বলেন, অনেকদিন আগে ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম। সে সময় আমার কাঁচা বাড়ি ছিল। আবেদনের ভিত্তিতে টাকা পেয়েছি। অন্যের টাকা আমার অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি।  ঘরের টাকা না পাওয়ায় নথি দেখাচ্ছেন উপভোক্তা।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)