পেনশনের লোভে বৃদ্ধ বাবাকে কুপিয়ে খুন, ধৃত বড় ছেলে সহ ৩
বর্তমান | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, ঝালদা: পারিবারিক বিবাদ ও পেনশনের লোভে বৃদ্ধ বাবাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাঘমুণ্ডির মার্চা গ্রামের ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম পুসু রজক(৮৩)। তিনি কোলিয়ারির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। শুক্রবার সকালে সুইসা ফাঁড়ির পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পাথরডি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন মৃতের মেজছেলে জগন্নাথ রজক। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ রজক, তার স্ত্রী অঞ্জলি ও ছেলে অসিতকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের আজ, শনিবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হবে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঘমুণ্ডি থানার তুন্তুড়ি-সুইসা অঞ্চলের মার্চা গ্রামে বৃদ্ধ পুসুবাবুর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তিনি কোলিয়ারির কাজ থেকে থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের টাকা ও জমিজমা নিয়ে বড় ছেলে ইন্দ্রজিতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। অভিযোগ, ওই বিবাদের জেরেই ইন্দ্রজিৎ বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ধারালো ছুরি নিয়ে বৃদ্ধ বাবার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাবার পেটে ও শরীরে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মারে। ঘটনাস্থলেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। সেই সময় বৃদ্ধের মেজ ছেলে জগন্নাথ রজক ও ছোট ছেলে তীর্থঙ্কর রজক বাড়িতেই ছিলেন। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরির কোপে জগন্নাথবাবু গুরুতর জখম হন। ছোট ছেলে তীর্থঙ্করবাবু তা দেখে ভয়ে পালিয়ে যান। জগন্নাথবাবু বলেন, আমি রাতে বাথরুম করতে বাইরে বেরিয়েছিলাম। সেই সময় বড় দাদার ছেলে অসিত আমাকে হঠাৎ মারতে শুরু করে। বাবাকে তখন আমার বড়দা ছুরি দিয়ে কোপাচ্ছিল। ঘরেই বাবার মৃত্যু হয়। আমাকেও ছুরি দিয়ে কোপায় বড়দার ছেলে। অভিযোগ, ইন্দ্রজিতের স্ত্রী ও ছেলের প্ররোচনায় জগন্নাথবাবু উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। জখম অবস্থায় জগন্নাথবাবু বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সময় জগন্নাথবাবুর স্ত্রী যমুনা রজক বাড়িতে ছিলেন না। তিনি বলেন, ২০১৭ সালেও একবার খুনের চেষ্টা হয়েছিল। জমির টাকা যাতে দিতে না হয়, সেই জন্যই আমার ভাশুর এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।মৃত বৃদ্ধের ছোট মেয়ে আমাবতীদেবী বলেন, ওইদিন রাতে বড়দাদার খুনি রূপ দেখে মেজদা ও ছোট দাদা পালাতে পারলেও বৃদ্ধ বাবা পালাতে পারেনি। বৃদ্ধের আর এক মেয়ে মেয়ে শিলাদেবী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পেনশনের টাকা এবং জমি সংক্রান্ত বিবাদেই বাবাকে খুন করা হয়েছে।