নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: নয়াগ্রামে আদিবাসী গৃহবধূর গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম লক্ষ্মী মুর্মু (৩৭)। তাঁর বাড়ি বড়খাঁকরি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ভালুকঘোড়া গ্ৰামে। বুধবার দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্ৰাম থেকে দু’ কিমি দূরে জঙ্গল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর ছোট ছেলে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তাকে মায়ের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়নি। গোপীবল্লভপুরের এসডিপিও পারভেজ সরফরাজ বলেন, এই ঘটনায় শুক্রবার সন্ধেবেলায় ভালুকঘোড়া গ্রাম থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা হল, পূর্ণচন্দ্র কিস্কু ও তার স্ত্রী অঞ্জলি। পুলিশের অনুমান, অবৈধ সম্পর্কের জেরে লক্ষ্মীকে খুন করেছে পূর্ণচন্দ্র ও অঞ্জলি।বুধবার সকালে দেওর ও দেওরের স্ত্রীর সঙ্গে লক্ষ্মীদেবীর শেষবার দেখা হয়। তাঁদের তিনি জানিয়েছিলেন, বোনের বাড়ি হয়ে গুনিনের বাড়ি যাবেন বলে। বিকেলে তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু, রাতেও তিনি বাড়ি না ফেরায় দেওর লক্ষ্মীর বড় ছেলে, যে মামার বাড়িতে ছিল, তাকে ফোন করেন। সে বলে, কোনো আত্মীয়র বাড়িতে গিয়ে থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলায় দেওর ও তাঁর স্ত্রী কাজ থেকে ফিরে গ্রামবাসীদের মুখে খবর পান যে, আকাশবনির জঙ্গলে বউদির মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। ছুটে গিয়ে জঙ্গলের মধ্যে বউদির গলা কাটা দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। লক্ষ্মীদেবীর স্বামী সামরায় মুর্মু রবিবার শিলিগুড়ি গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিলেন লক্ষ্মী মুর্মু, দেওর সামায় মুর্মু ও তাঁর স্ত্রী। ছোট ছেলে মঙ্গল মুর্মু নয়াগ্ৰাম বয়েজ হাইস্কুলের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। দেওর সাময় মুর্মু ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে দাঁড়িয়ে বলেন, বুধবার সকাল ৯টার সময় বউদির সঙ্গে শেষ কথা হয়। বউদি গুনিনের বাড়িতে ওষুধ আনতে যাবার কথা বলেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছিল। গলা ও মুখের দু’ পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটার চিহ্ন ছিল। বউদির শাড়ি ও ব্লাউজ ছেঁড়া ছিল। দাদাকে ফোন করে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। থানায় অভিযোগ করেছি। মৃতার দাদা স্বদেশ কিস্কু বলেন, বোন ভালুকঘোড়া থেকে বের হয়ে সেদিন দু’-তিন কিমি দূরে কুপড়াকুঠিতে আমার আর এক বোনের বাড়িতে গিয়েছিল। সেখান থেকে কুড়ি কিমি দূরে খেঁজরা এলাকায় গুনিনের বাড়িতে ওষুধ আনতে যায়। বিকেলেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল। আমরা ভেবেছিলাম ছোট বোন বা অন্য কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছে। এমন ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। ছোট ভাগ্নে হস্টেলে থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। এদিন ইতিহাসের পরীক্ষায় বসেছে। মায়ের মৃত্যুর খবর ওকে দেওয়া হয়নি। বোনকে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা চাইছি পুলিশ দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর সঙ্গে ধৃত পূর্ণচন্দ্রের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তা নিয়ে পূর্ণ ও তাঁর স্ত্রী অঞ্জলির অশান্তিও হতো। অঞ্জলি আলাদা থাকতে শুরু করেন। এদিকে লক্ষ্মী পূর্ণচন্দ্র ছাড়াও আরও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তা নিয়ে পূর্ণর সঙ্গে তাঁর ঝামেলা শুরু হয়। এদিকে অঞ্জলি পূর্ণচন্দ্রকে জানায়, সে লক্ষ্মী অথবা তাঁর মধ্যে যে কোনও একজনকে বেছে নিক। এই অবস্থায় পূর্ণ নিজের স্ত্রীর প্রতিই আস্থা জানায়। পুলিশের অনুমান, এরপরই দুজনে লক্ষ্মীকে খুনের পরিকল্পনা করে। ভালুকঘোড়া গ্ৰামের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য শিবানী সরেন বলেন, এই ঘটনায় গ্ৰামের মহিলারা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নয়াগ্ৰাম থানা জানিয়েছে, খুনের অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।