• কাজ শুরু করে উধাও ঠিকাদার অসম্পূর্ণ রাস্তা ঘিরে বিক্ষোভ
    বর্তমান | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কাজ শুরু হয়েছিল জোরকদমে। কিন্তু কয়েক মাস ঘুরতেই থমকে যায় সব। তারপর কেটে গিয়েছে আরও কয়েক মাস। সেই অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রাস্তা আজ পরিণত হয়েছে বিপজ্জনক ফাঁদে। দেগঙ্গার চাঁপাতলা পঞ্চায়েত এলাকার টাকি রোড সংযোগকারী গিলাবেড়িয়া থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশায় তীব্র দুর্ভোগে গ্রামবাসীরা। তুমুল ক্ষোভে শুক্রবার দুপুরে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের জন্য। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কাজ শুরু হয়। জেসিবি দিয়ে রাস্তা খোঁড়া, রোলার চালানো সবই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় কাজ। তারপর থেকে আর দেখা মেলেনি বরাত পাওয়া ঠিকাদারের। শুরু হয়নি সংস্কারের বাকি অংশ। তাই এখন রাস্তার চিত্র ভয়াবহ। তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, ছড়িয়ে রয়েছে পাথর– প্রতিটি পদক্ষেপে বিপদের আশঙ্কা। স্কুলপড়ুয়া, সাধারণ মানুষ, অসুস্থ রোগী নিয়ে যাতায়াত করা পরিবার– সবাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বড় গাড়ি গেলেই পাথর ছিটকে পথচারীদের গায়ে লাগছে। সম্প্রতি এক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।বিক্ষোভকারী রফিক আহমেদ ও মহম্মদ নাসিরউদ্দিন মোল্লা বলেন, কাজ কিছুটা শুরু হয়েছিল। কিন্তু তারপরেই থেমে গেল। ফলে আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। আমরা চাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অবিলম্বে কাজ ফের শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন হবে। এনিয়ে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য মন্টু সর্দার বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি মেনে কাজ শুরু হলেও এক মাস পর তা বন্ধ হয়ে যায়। গত চার-পাঁচ মাস ধরে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া মেলেনি। তাই মানুষের প্রতিবাদ ভুল কিছু নয়। দিনকয়েক আগে ওই রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে একজনের পা ভেঙেছে। বড় গাড়ি গেলে পাথর ছিটকে পথচারীদের লাগছে।এনিয়ে বরাত পাওয়া ঠিকাদার প্রভাস ঘোষ বলেন, টাকা না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। দপ্তরকে লিখিতভাবে বিষয়টি আমি জানিয়েছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এলাকার মানুষকে নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সোমবার কাজ ফের শুরু হবে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)