• আজ শেষ দিন, শুনানি বাকি ২২ লক্ষের
    বর্তমান | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ, শনিবার বাংলায় এসআইআর শুনানির শেষ দিন। কিন্তু সূত্রের খবর, এখনও প্রায় ২২ লক্ষের কাছাকাছি শুনানি বাকি! ফলে নির্ধারিত সময়ে শুনানি শেষ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সময় বৃদ্ধি আবশ্যিক। কিন্তু শুক্রবার রাত পর্যন্ত তেমন কোনো নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গের সিইও দপ্তরে এসে পৌঁছায়নি। যোগী রাজ্যে কিন্তু এসআইআরের সময়সীমা ফের বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।সূত্রের খবর, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর কলকাতা এবং কার্শিয়াং জেলায় শুনানির কাজ অনেকটাই বাকি। এই জেলাগুলির তরফে শুনানির সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে (সিইও অফিস)। কিন্তু এই জেলাগুলির ঠিক কোন কোন বিধানসভায় শুনানি শেষ হয়নি, তার তালিকা জেলাশাসকদের থেকে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, জেলাগুলির তরফে বিধানসভা ভিত্তিক ওই তালিকা পাওয়ার পর শুনানির দিন বৃদ্ধি করা নিয়ে শনিবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবেন সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল। শুধুমাত্র বিধানসভা ভিত্তিক নামই পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এবং ওইসব বিধানসভাতেই শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধি হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। বাকি বিধানসভাগুলিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলবে। কমিশনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যাতে ১৪ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা যায়, সেজন্যই এই ব্যবস্থা। প্রথম দিকে ধীরগতিতে শুনানি চলার কারণেই গোটা প্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে পড়েছিল। গত কয়েকদিনে দৈনিক পাঁচ থেকে সাত লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়েছে এ রাজ্যে। ফলে কাজ অনেকটাই এগিয়েছে।কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি এবং আনম্যাপড ভোটার মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষের কাছাকাছি শুনানি শেষ। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও ২২ লক্ষ শুনানি বাকি। এছাড়া এখনও পর্যন্ত হওয়া শুনানির মধ্যে ৮০ লক্ষের তথ্য যাচাই সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, যাচাই বাকি প্রায় ৭২ লক্ষের। আরও জানা যাচ্ছে, সম্পূর্ণ তথ্য আপলোডের কাজও শেষ হয়নি। শুনানি হওয়ার পর আপলোড হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ।এদিকে, কমিশন সমস্ত জেলাগুলিকে আবারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, শুনানিতে ভোটাররা যে নথি জমা দিয়েছেন, তা ভুয়ো হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে জেল ও জরিমানার কোপে পড়তে হবে। ভুয়ো নথি পেলেই জেলাগুলিকে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপেরও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তবে যে সংখ্যক শুনানি শেষ হয়েছে, তাতে দ্বিতীয়বার নোটিসের পরও প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ ভোটার শুনানিতে উপস্থিত হননি। অর্থাৎ, এই সাড়ে ৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়বে বলেই জানাচ্ছে কমিশন। কেন তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হল, সেই কারণ জানিয়ে তাঁদের নোটিস পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই সংখ্যাটা আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গোটা শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হলে সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে বলে জানাচ্ছে কমিশন।এক দফাতেই ভোটের প্রস্তাব সিইও দপ্তরের২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এক দফাতেই সম্পন্ন করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে এই মর্মেই তারা প্রস্তাব পাঠাতে চলেছে। তবে রাজ্যে কত দফায় ভোট হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশনই। সিইও দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘এক দফায় ভোট হলে অসুবিধা কী? এর আগেও এই রাজ্যে এক দফায় ভোট হয়েছে। এক দফায় ভোট করাতে আমরা প্রস্তুত।’
  • Link to this news (বর্তমান)