নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘোষণা বাস্তবায়িত হল মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। কথা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! শুক্রবার দুপুর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপক মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে বর্ধিত অংশ সহ ভাতা। কারও অ্যাকাউন্টে ১৫০০, আবার কারও অ্যাকাউন্টে ১৭০০ টাকা। ফলে খুশির হাওয়া রাজ্যজুড়ে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজেট অধিবেশনে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ৫০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, ২০ লক্ষ ৬২ হাজার মহিলা নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন এই প্রকল্পে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মোট ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বার্ধিত ভাতা ঢুকে যাবে। তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যে সেই বাজেট ঘোষণা কার্যকর হয়ে যাবে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি দক্ষিণ কলকাতার রানিকুঠির সবজি বিক্রেতা রত্না মালাকার। উচ্ছ্বসিত রত্নার কথায়, ‘বিকেলে হঠাৎই এসএমএস এল, ১৭০০ টাকা ঢুকেছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এটা আমার টাকা, দিদি দিয়েছেন!’ নবান্ন সূত্রে খবর, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর অন্তত অর্ধেক প্রাপকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গিয়েছে। বাকিটাও ছাড়া শুরু হয়েছে।ভোটমুখী বাংলায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’ টাকা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা মাত্রই বিরোধিতা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন মহলে। সমাজমাধ্যমেও চলছে তুমুল বিতর্ক। তাতে অবশ্য সাধারণ মহিলাদের উচ্ছ্বাস থেমে থাকেনি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘অকাল হোলি’তে মেতে উঠেছেন তাঁরা। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিছিলও বের হয়েছে। এই পর্বেই কেন্দ্রের এক পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, যা বাংলায় মমতার চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপযোগিতাকে ব্যাখ্যা করেছে। তা হল— নারী নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এবং তাতে জমাকৃত অর্থের নিরিখে দেশের শীর্ষ তিন রাজ্যের মধ্যে অন্যতম পশ্চিমবঙ্গ। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য প্রতিমাসে খরচ হত ২ হাজার ২৭৮ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা। উপভোক্তা ও টাকা বৃদ্ধির পর এখন তা ৩ হাজার ৬৯৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায় পৌঁছাবে।বিরোধীদের সমালোচনায় কান দিতে রাজি নন শিলিগুড়ির ঠিকনিকাটার গৃহবধূ রঞ্জনা মল্লিক। তাঁর কথায়, ‘দিদির দেওয়া এ টাকা অনেকটাই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিয়েছে। নিজের খরচের জন্য কারও কাছে হাত পাততে হচ্ছে না।’